
মাসুমা আহমেদ, বয়স ৩৩। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্পোরেট চাকরি করেন। এক সন্তানের মা তিনি। ব্যস্ত কর্মজীবন, সংসার ও সন্তান সামলাতে গিয়ে নিজের যত্ন নেওয়ার সময় খুব একটা পান না। কয়েক মাস ধরে তিনি লক্ষ্য করছেন, ত্বক আগের মতো উজ্জ্বল নেই, চুল পড়ছে বেশি, আর ক্লান্তিও যেন সহজে পিছু ছাড়ছে না। প্রথমে দামি স্কিনকেয়ার পণ্যের দিকে ঝুঁকলেও পরে বুঝতে পারেন, সমস্যার মূল কারণ শরীরের ভেতরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছরের পর নারীদের শরীরে নানা ধরনের জৈবিক পরিবর্তন শুরু হয়। এই সময়ে শুধুমাত্র স্কিনকেয়ার নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ ত্বক, চুল এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ
ত্বক, চুল, নখ এবং পেশির প্রধান উপাদান হলো প্রোটিন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেন উৎপাদন কমতে থাকে। পর্যাপ্ত প্রোটিন না পেলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, ডাল এবং দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন।
ভিটামিন ‘সি’ খাওয়া
ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, আমলকি ও লেবুজাতীয় ফল ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
ওমেগা-৩ ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং প্রদাহ কমায়। একই সঙ্গে এটি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতার জন্যও উপকারী। সামুদ্রিক মাছ, তিসি বীজ এবং আখরোটে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়।
আয়রন
আয়রনের ঘাটতি নারীদের মধ্যে খুবই সাধারণ। এর ফলে দুর্বলতা, চুল পড়া এবং ত্বকের ফ্যাকাশে ভাব দেখা দিতে পারে। লাল মাংস, কলিজা, পালং শাক ও ডাল আয়রনের ভালো উৎস।
ফোলেট
ফোলেট বা ভিটামিন বি-৯ নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে এবং শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শাকসবজি, ডাল ও বিভিন্ন বীজজাতীয় খাবারে প্রচুর ফোলেট থাকে।
আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলো বলছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য ও সুস্থতা ধরে রাখতে বাহ্যিক প্রসাধনীর চেয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে।


