
টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খোয়াই নদের দুটি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ২০টি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। অনেক এলাকায় বাড়িঘরে কোমরসমান পানি উঠেছে, তলিয়ে গেছে সড়ক ও ফসলি জমি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এবং সন্ধ্যায় সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রাম এবং বানিয়াচংয়ের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। শহরের কামড়াপুর ও দানিয়ালপুর এলাকার কিছু অংশেও পানি প্রবেশ করেছে।
বন্যার পানিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ এলাকায় খোয়াই নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে অন্তত ১৫টি পরিবার, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধের কয়েকটি অংশও হুমকির মুখে পড়েছে।
বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মাইকিং করে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, খোয়াই নদের চুনারুঘাট, শায়েস্তাগঞ্জ ও মাছুলিয়া পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনা খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


