
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। সর্বশেষ হিসাবে ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার পরিবার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, বর্তমানে সাঙ্গু, খোয়াই, মনু ও কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে এবং পরবর্তী সময়ে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পার্বত্য অঞ্চল, হাওর এলাকা এবং নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন নৌকাযোগে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
এদিকে, উত্তরাঞ্চলেও বন্যার শঙ্কা বাড়ছে। ভারতের সিকিম, দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে যাতে অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়া যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিস্তার পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে বা তার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার তিস্তা তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ দিয়ে পানি ছেড়ে দেওয়া এবং সিকিম-দার্জিলিং অঞ্চলের পাহাড়ি ঢলই তিস্তার পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।


