
সংবিধান পুনর্লিখন বা ‘সংস্কার’ নয়, বরং প্রয়োজনীয় সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিএনপি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতেই ভোট দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট অনুযায়ী দলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ফসল ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তা হবে জনগণের রায় এবং দলের নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে।
জুলাই সনদের কয়েকটি বিষয়ে দলের আপত্তির কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ গঠন কিংবা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং এসব বিষয়ে দল কখনোই একমত হয়নি। জনগণের সম্মতি ছাড়া এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে অতীতে যত বড় গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হয়েছে, তার পেছনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, কিছু বিরোধী দল জুলাই আন্দোলনকে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। অথচ এই আন্দোলন এক মাসের নয়, বরং গত ১৮ থেকে ১৯ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি আরও দাবি করেন, এ সময়ে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, ১ হাজার ৭০০ জন গুম হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের অবদানের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি কখনো ক্ষমতার লোভে বিএনপির পাশে দাঁড়াননি। দল যখন ক্ষমতার বাইরে থেকে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছে, তখনও তিনি পাশে ছিলেন। উদারপন্থী গণতন্ত্রের একজন পথপ্রদর্শক হিসেবেই তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষত একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতোই ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেছে। এখন বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ধৈর্যের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি মানবিক, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।


