বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬

হাসিনা গুম-খুনের সরাসরি নির্দেশদাতা এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দেওয়া (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে জুলাই-অগাস্টের গণআন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘গুম-খুনের সরাসরি নির্দেশদাতা বলা হয়েছে’ বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

এইচআরডব্লিউর একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মঙ্গলবার সাক্ষাত করে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেছে বলে তার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

“এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা সংস্থাটিকে বলেছেন- শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্জন বন্দিত্বের বিষয়ে জানতেন। কিছু ক্ষেত্রে হাসিনা সরাসরি গুম ও হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।”

তুমুল গণআন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই থাকছেন।

জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন দমাতে ‘গণহত্যার’ একটি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে এরইমধ্যে ভারতকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুটি অভিযোগ রয়েছে গুমের।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গত ১৫ ডিসেম্বর যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানে গত ১৫ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন গুমের ঘটনায় ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ তার প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ ছাড়াও শেখ হাসিনার সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সঙ্গে জড়িত এই বাহিনীর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলেছে।

মানবাধিকার সংস্থাটির এশিয়া পরিচালক এলেইন পিয়ার্সন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বলেছেন, “শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ‘রাজনীতিকরণ’ হয়েছিল এবং তারা ‘শাসক দলের ক্যাডার’ হিসেবে কাজ করে। ফলে এসব বাহিনীর পদ্ধতিগত সংস্কার প্রয়োজন।

প্রতিনিধি দলটি সংস্কার কার্যক্রম ও দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের চেষ্টার প্রশংসা করেছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ