আট বছর পর দ: কোরিয়ায় জয় পেল উ: কোরিয়ার নারী দল 

দক্ষিণ কোরিয়ায় আট বছরের মধ্যে প্রথমবার সফরে যাওয়া উত্তর কোরিয়ার একটি ক্রীড়া দল বুধবার এশিয়ান উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছে। উত্তর কোরিয়ার নায়েগোহিয়াং উইমেন্স এফসি ২-১ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সুওন এফসি উইমেন্সকে।

সুওনে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় নায়েগোহিয়াং। পুরো ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়রা লড়াকু মনোভাব দেখালেও বড় কোনো উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেনি।

ম্যাচের শেষ দিকে, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে, সুওন অধিনায়ক জি সো-ইউন একটি পেনাল্টি মিস করেন।

ফাইনালে উঠতে পারায় উত্তর কোরিয়ার দলটি শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়াতেই অবস্থান করবে। ফাইনালে একই ভেন্যুতে তারা মুখোমুখি হবে জাপানের টোকিও ভার্দি বেলেজার।

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরল এই সেমিফাইনাল ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। গত সপ্তাহে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৭ হাজার ৮৭টি সাধারণ প্রবেশ টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

খেলা শুরুর আগে ৭০ বছর বয়সী এক নারী, যিনি নিজের পদবি ‘লি’ বলে পরিচয় দেন, এএফপিকে জানান যে তিনি কাছেই থাকেন এবং “উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়দের এক ঝলক দেখার আশায়” মাঠে এসেছেন।

তিনি বলেন, “আমি দুই দলকেই সমর্থন দেব। তবে উত্তর কোরিয়ার প্রতি একটু বেশি সমর্থন আছে, কারণ তারা এত দূর থেকে এখানে এসেছে।”

খারাপ আবহাওয়ার কারণে ছাদবিহীন সুওন স্পোর্টস কমপ্লেক্স স্টেডিয়ামের অর্ধেক আসন ফাঁকা ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় আসা কয়েকটি নাগরিক সংগঠনের সদস্যরা দুই দলকেই সমর্থন জানাতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন, যদিও তারা বেশিরভাগ সময় নীরব ছিলেন। অন্যদিকে সুওন সমর্থকেরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে নিজেদের দলকে উৎসাহ দেন।

উত্তর কোরিয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক সমর্থক মাঠে ছিল না, কারণ সাধারণত উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। ১৯৫০ সালের যুদ্ধের পর থেকে দুই দেশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থাতেই রয়েছে।

এর আগে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বেও দুই দলের দেখা হয়েছিল, যেখানে নায়েগোহিয়াং ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল।

সাবেক চেলসি মিডফিল্ডার জি সো-ইউন ম্যাচের আগে বলেছিলেন, তারা কঠিন শারীরিক লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং প্রতিপক্ষকে সমান জবাব দিতে চান।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল দ্রুতগতির ও পরিচ্ছন্ন ফুটবল উপহার দেয়। পঞ্চম মিনিটে অফসাইডের কারণে নায়েগোহিয়াংয়ের একটি গোল বাতিল হয়। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে সুওন-এর জাপানি স্ট্রাইকার হারুহি সুজুকির হেড পোস্টে লাগে।

৪৯তম মিনিটে সুজুকি গোল করে সুওনকে এগিয়ে দেন। নায়েগোহিয়াংয়ের রক্ষণভাগের দ্বিধার সুযোগ নিয়ে তিনি গোলটি করেন। তবে মাত্র ছয় মিনিট পরই ফ্রি-কিক থেকে হেড করে সমতা ফেরান চোয়ে। এরপর ৬৭তম মিনিটে উত্তর কোরিয়ার তারকা স্ট্রাইকার কিম কিয়ং ইয়ং একটি এলোমেলো আক্রমণ থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

ভিএআর রিভিউয়ের পর সুওন একটি পেনাল্টি পেলেও জি সো-ইউনের শট গোলপোস্টের বাইরে চলে যায়, যদিও গোলরক্ষক ভুল দিকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।

দিনের অন্য সেমিফাইনালে জাপানের টোকিও ভার্দি বেলেজা ৩-১ গোলে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সিটিকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে।

সূত্র: ডন, এএফপি

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ