হিটস্ট্রোক এড়াতে যেসব খাবার ও পানীয় জরুরি

দুপুরের প্রখর রোদে বাজার থেকে ফেরার পথে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান ৬০ বছর বয়সী আব্দুর রহিম। শরীর ঘামে ভিজে গেলেও মুখ শুকিয়ে যাচ্ছিল। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানান, তিনি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণে শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।

গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ এখন দেশের মানুষের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপপ্রবাহ মানে শুধু অস্বস্তি বোধ করা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে চরম তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকলে ডিহাইড্রেশন, হিট এক্সহশন, মাসল ক্রাম্পস, জ্ঞান হারানো এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোক হতে পারে।

হিটস্ট্রোক সাধারণত তখনই হয়, যখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ক্ষমতা ব্যাহত হয়। প্রচণ্ড গরমে শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপ বের করে দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে বা দীর্ঘসময় রোদে থাকলে শরীর দ্রুত পানি ও লবণ হারায়। এতে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড গরমে নিরাপদ থাকতে নিয়মিত পানি ও তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট খাবার শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ডাবের পানি

প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ ডাবের পানি গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। এতে থাকা পটাশিয়াম ও মিনারেল শরীরকে দ্রুত সতেজ করে এবং ক্লান্তি কমায়। যারা দীর্ঘসময় বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য ডাবের পানি হতে পারে আদর্শ পানীয়।

লেবুর সরবত

গরমে লেবুর সরবত শুধু তৃষ্ণাই মেটায় না, শরীরে ভিটামিন সি ও প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতিও পূরণ করে। সামান্য লবণ ও চিনি মিশিয়ে তৈরি করা লেবুর শরবত শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক।

ঘোল ও লাচ্ছি

দই থেকে তৈরি ঘোল বা লাচ্ছি শরীর ঠান্ডা রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর। এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমশক্তি ভালো রাখে এবং শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুপুরের খাবারের পর এক গ্লাস ঘোল গরমে স্বস্তি দিতে পারে।

তরমুজ

গরমের অন্যতম জনপ্রিয় ফল তরমুজে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে। ফলে এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্লান্তি কমায়।

শসা

শসায় প্রচুর পানি ও ফাইবার রয়েছে, যা শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর। সালাদ কিংবা সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমে সহজেই শরীরের পানির ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রচণ্ড গরমে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারও শরীরে অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ