শৈশবের জাদুকর মুস্তাফা মনোয়ার চলে গেলেন না ফেরার দেশে

বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী এবং বাংলাদেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

তিনি স্ত্রী মেরী মনোয়ার, ছেলে সাদাত মনোয়ার, মেয়ে নন্দিনী মনোয়ারসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

মুস্তাফা মনোয়ারের ব্যক্তিগত সহকারী মো. রুবেল মিয়া জানান, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে কয়েক দিন ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে নেওয়া হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও চারুকলা ইনস্টিটিউটসহ আরও কয়েকটি স্থানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেওয়ার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। কলকাতা আর্ট কলেজে চারুকলায় পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে শিক্ষকতা, শিল্পচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিবেদিত করেন।

চিত্রকলার পাশাপাশি বাংলাদেশের পাপেট শিল্পকে জনপ্রিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র পরিকল্পনা ও নির্মাণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এই শিল্পী।

কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৪ সালে একুশে পদক এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সুলতান স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সরকারি কর্মকর্তারা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ