
একসময় ১৩৩ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় তদন্ত শেষে সাদিক অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে অনুমোদনহীন ব্রাহমা জাতের গরু আমদানির মাধ্যমে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচারের প্রমাণ মিলেছে বলে অভিযোগপত্রে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
২০২৫ সালের মার্চে সাদিক অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি। সম্প্রতি আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রতারণা, জালিয়াতি, চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে। বর্তমানে ইমরান কারাগারে রয়েছেন, আর তৌহিদুল আলম পলাতক।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রাহমা গরু আমদানি, ভুয়া আমদানি অনুমতিপত্র ব্যবহার, সরকারি খাল ও সড়ক দখল এবং বাজেয়াপ্ত গরু আত্মসাতের অভিযোগ। সিআইডির হিসাবে, সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় ৮৩ লাখ টাকার অপরাধলব্ধ আয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মামলার অভিযোগের বড় ধরনের পরিবর্তন। প্রাথমিক এজাহারে ১৩৩ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ থাকলেও তদন্ত শেষে সেই অঙ্ক নেমে এসেছে দেড় কোটির নিচে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ব্যাংক লেনদেনকে ভুলভাবে মানি লন্ডারিং হিসেবে ধরে মামলা করা হয়েছিল। যদিও সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে পৃথকভাবে তদন্ত হওয়া উচিত, কারণ এই পরিবর্তনে আসামিরা আদালতে সুবিধা পেতে পারেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তদের ৭৪টি ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে ২৭টি হিসাব জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ গবাদিপশু আমদানি ও অর্থ পাচারের আন্তর্জাতিক সংযোগ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছেও আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


