শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের ১১ হাজার কোটি টাকা নেগেটিভ ইক্যুইটি

দেশের শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই এখন গভীর ঝুঁকিতে। ১০৫টি ব্রোকারেজ হাউস ও ৪১টি মার্চেন্ট ব্যাংক গ্রাহকদের শেয়ার কেনার জন্য মোট ১৬ হাজার ৪০ কোটি টাকা মার্জিন ঋণ দিয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা নেগেটিভ ইক্যুইটি সৃষ্টি হয়েছে, যা বাজারের জন্য বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস শেষে নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল ঋণ ৭ হাজার ৮২০ কোটি টাকা এবং স্থগিত সুদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা।

ব্রোকারেজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের চিত্র

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ১০২টি ব্রোকারেজ হাউস প্রায় ৯৬ হাজার ৬১২টি মার্জিন অ্যাকাউন্টে মোট ৯ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৩৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) তিনটি ব্রোকারেজ হাউস ৫ হাজার ৭২১ জন বিনিয়োগকারীকে ৩২ কোটি টাকা মার্জিন ঋণ দিয়েছে, যার বিপরীতে ২৫ কোটি টাকা নেগেটিভ ইক্যুইটি হয়েছে।

এ ছাড়া ৪১টি মার্চেন্ট ব্যাংক ২৯ হাজার ১৯১ জন বিনিয়োগকারীকে মোট ৬ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা মার্জিন ঋণ দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ ৪ হাজার ৯২০ কোটি টাকা।

মার্জিন ঋণ বিধিমালা শিথিলের উদ্যোগ

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মার্জিন ঋণ বিধিমালা শিথিলের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ১৯ জুলাই প্রকাশিত সংশোধনী প্রস্তাবে মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত না করেও ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংককে মার্জিন ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া লভ্যাংশের হার যাই হোক, ‘বি’ ক্যাটেগরির শেয়ারকেও মার্জিনযোগ্য করার প্রস্তাব রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মত

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের কমিশনের বিধিমালা ছিল অত্যন্ত কঠোর, আবার বর্তমান কমিশনের প্রস্তাব অতিরিক্ত উদার। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত শিথিলতা বাজারে কারসাজি ও ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আগের বিধিমালা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান প্রস্তাবে ‘বি’ ক্যাটেগরির শেয়ার মার্জিনযোগ্য করা হলে তা বাজারে কারসাজির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হলেও সাধারণ বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান পিই (P/E) রেশিও মানদণ্ড বহাল রাখাই যুক্তিযুক্ত।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ