এআই ভিডিওর তিন ধরনের কন্টেন্টে আয় বন্ধ করবে ইউটিউব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নিম্নমানের ভিডিওর বিস্তার ঠেকাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ইউটিউব। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট তিন ধরনের এআই কন্টেন্ট আর ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (YPP) থেকে আয় করতে পারবে না।

ইউটিউবের ভাষায়, এসব ভিডিও ‘ইন-অথেনটিক কন্টেন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে গণহারে তৈরি নিম্নমানের কন্টেন্ট নিরুৎসাহিত করা এবং মৌলিক ও মানসম্মত কন্টেন্ট নির্মাতাদের উৎসাহিত করাই নতুন নীতিমালার উদ্দেশ্য।

এর আগে গত বছরও ইউটিউব গণহারে (Mass Produced) ও পুনরাবৃত্তিমূলক (Repetitive) ভিডিও থেকে আয়ের সুযোগ সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছিল। এবার সেই নীতিমালাকে আরও স্পষ্ট করে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাসায় ল্যাপটপে এআই কন্টেন্ট তৈরি করছেন এক তরুণী, প্রতীকী ছবি
বাসায় ল্যাপটপে এআই কন্টেন্ট তৈরি করছেন এক তরুণী, প্রতীকী ছবি

যে তিন ধরনের কন্টেন্টে আয় বন্ধ হবে

১. পুনরাবৃত্তিমূলক বা একই ধরনের কন্টেন্ট

একই ধরনের ভিডিও বারবার তৈরি করা, টেমপ্লেট ব্যবহার করে গণহারে কন্টেন্ট প্রকাশ করা বা খুব সামান্য পরিবর্তন এনে একই ধরনের ভিডিও আপলোড করলে সেগুলো আর আয়যোগ্য হবে না।

২. দর্শকের আবেগ প্রভাবিত বা অস্বস্তিকর কন্টেন্ট

এমন কন্টেন্ট, যা ইচ্ছাকৃতভাবে দর্শকদের আবেগকে প্রভাবিত করে, বিভ্রান্ত করে বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে—এসব ভিডিওও ইউটিউবের নতুন নীতিমালার আওতায় আয় হারাতে পারে।

৩. সংবেদনশীল বিষয়ে এআই-চালিত মানবসদৃশ কন্টেন্ট

স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, অর্থব্যবস্থা বা আইনি পরামর্শের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআই দিয়ে তৈরি মানবসদৃশ চরিত্র ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করলে সেগুলো থেকেও আর আয় করা যাবে না।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

ইউটিউব জানিয়েছে, ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম নির্মাতাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবার মাধ্যমে নির্মাতারা এখান থেকে আয় করেন।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, নিম্নমানের এআই কন্টেন্টে প্ল্যাটফর্ম ভরে গেলে শুধু দর্শকের অভিজ্ঞতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বিজ্ঞাপনদাতাদের আস্থাও কমে যেতে পারে। তাই কন্টেন্টের মান ধরে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কোন চ্যানেলগুলো ঝুঁকিতে থাকবে?

ইউটিউব জানিয়েছে, কোনো চ্যানেলে যদি উল্লেখিত তিন ধরনের কন্টেন্টের যেকোনো একটি অতিরিক্ত পরিমাণে থাকে, তাহলে সেই চ্যানেল ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে আয় করার যোগ্যতা হারাতে পারে।

ইউটিউবের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগের প্রধান ম্যাট হ্যালপ্রিন বলেন, এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো শুধুমাত্র আয়ের জন্য তৈরি নিম্নমানের ভিডিওর বিস্তার কমানো। তবে এআই ব্যবহার করে তৈরি মৌলিক ও উচ্চমানের কন্টেন্টকে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে স্বাগত জানানো হবে।

সূত্র: টেক ক্র্যাঞ্চ

ছবি: এআই জেনারেট

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ