
ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবারও আন্দোলনে ফেরার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, আন্দোলন স্থগিতের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শত শত শিক্ষার্থী এখনো আটক রয়েছেন বা পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।
গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় সিজেপি। তবে সোমবার সংগঠনটি অভিযোগ করে, সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে তারা আবারও আন্দোলনে ফিরতে বাধ্য হবেন।
সংগঠনটির দাবি, সারা দেশে অন্তত ১০০ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং আন্দোলনের অন্যতম মুখ নেহা বোরা বিহার সফর করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গে গত সপ্তাহের বিক্ষোভ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কঠোর আইনে একাধিক মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলনের আরেক মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, পুলিশের করা ফৌজদারি মামলায় জড়ানো শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠন করেছে সিজেপি।
গত মে মাসে অভিজিৎ দীপকের উদ্যোগে গঠিত সিজেপি অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে গত সপ্তাহে দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে লাখো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন।
২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তর এলাকা থেকে সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করলে বহু শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
পরে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হলে প্রধান বিচারপতি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার ভারতের সংবিধান নিশ্চিত করেছে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আরও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

