ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ, মার্কিন সেনাদের গণকবরের মহড়া

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের মরদেহ ব্যবস্থাপনার বিশেষ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। মহড়ায় যুদ্ধের ময়দানে অস্থায়ীভাবে মরদেহ দাফন ও সংরক্ষণের পদ্ধতি অনুশীলন করা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর এই প্রথম মার্কিন সেনারা এ ধরনের অনুশীলনে অংশ নিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মহড়ায় ফোর্ট ব্র্যাগের থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, ২০তম ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড এবং সামরিক চ্যাপলিনরা অংশ নেন। এতে এক্সক্যাভেটর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে মরদেহ দাফন করা যায়, তা অনুশীলন করা হয়।

মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নিহত সেনাদের মরদেহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা, পরিচয় শনাক্তের উপযোগী রাখা এবং যুদ্ধ শেষে সামরিক মর্যাদায় দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি যাচাই করা।

অনুশীলনে অংশ নেওয়া থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফার্স্ট ক্লাস সার্জেন্ট ডেলবার্ট রুয়েড বলেন, সংঘাতের সময় সহযোদ্ধাদের মরদেহ সর্বোচ্চ সম্মান ও নিয়ম মেনে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে যেন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে না হয়, সে জন্য আগেভাগেই পরীক্ষিত পদ্ধতি তৈরি রাখা জরুরি।

এদিকে, সেনাবাহিনীর ধর্মীয় গুরু ও চ্যাপলিনরাও প্রায় দুই দশক পর যুদ্ধক্ষেত্রে অস্থায়ী দাফনের ধর্মীয় রীতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বড় সংঘাতে আকাশপথে দ্রুত মরদেহ সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই মার্কিন সেনাবাহিনী এ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে এই মহড়াকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আসন্ন হওয়ার নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতির অংশ।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ