গাজায় ভারি বৃষ্টিতে পানিবন্দি হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভারি বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে গেছে বাস্তুচ্যুত মানুষের হাজার হাজার তাঁবু। এতে নতুন করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আশ্রয়হীন ফিলিস্তিনিরা। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজার প্রায় সব মানুষেরই এখন জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁবুতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি হাঁড়ি-পাতিল দিয়ে সরানোর চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। অনেকের তাঁবু পানিতে ডুবে যাওয়ায় তারা আবারও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।

ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের প্রতিনিধি জোনাথন ভেইচ বলেন, ভারি যন্ত্রপাতি ও ইঞ্জিন অয়েলের মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে ইসরাইলের বিধিনিষেধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের অনেককে একাধিকবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকটেও ভুগছেন তারা।

ত্রাণ সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোনাথন ভেইচ বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং মানুষ চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। যতটা সম্ভব সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ত্রাণকর্মীরা রাস্তায় বের হলেই মানুষ তাদের থামিয়ে সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।

এদিকে হামাস পরিচালিত গাজার সরকারি কর্তৃপক্ষের দাবি, ভারি বৃষ্টিতে প্রায় ৭০ হাজার তাঁবু পানিতে ডুবে গেছে। সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে ফাটল ধরা দেয়াল ও ছাদের কয়েক ডজন অংশ ধসে পড়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ