বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬

বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালো বাংলাদেশ সিরিজে সমতা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে প্রথম ওয়ানডেতে বিধ্বস্ত হওয়ার পরের ম্যাচেই দাপুটে বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়াল সফরকারী বাংলাদেশ। দূরে সরে যাওয়াটা লক্ষ্যটাও নাগালে চলে এলো আবার। বড় জয়ে সিরিজে সমতা ফেরানোর পর বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন আর একটি জয়। সিরিজের শেষ ম্যাচে জিতলেই মিলবে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর বাকি দুটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য ছিল ‘ফাইনাল।’ সেটির প্রথম ফাইনালে বাংলাদেশ জিতেছে ৬০ রানে।

সেন্ট কিটসে আগের ম্যাচে ১৯৮ রান নিয়ে ৯ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার তো পুঁজি আরও কম। ১৮৪ রানেই শেষ ইনিংস। ফিফটি আসে কেবল অধিনায়ক নিগার সুলতানার ব্যাট থেকে।

তবে বিশ্বকাপের আশা জিইয়ে রাখার তীব্র তাড়নায় দারুণ পারফরম্যান্স মেলে ধরলেন বাংলাদেশের বোলাররা। মাত্র ৩৫ ওভারেই ক্যারিবিয়ানরা অলআউট ১২৪ রানে।

বাংলাদেশের স্পিনত্রয়ী নাহিদা আক্তার, রাবেয়া খান ও ফাহিমা খাতুন মিলে শিকার করেন ৭ উইকেট। পেস বোলিংয়ের ভরসা মারফা আক্তারও অবদান রাখেন দুই উইকেট নিয়ে।

সিরিজের শেষ ম্যাচ জিততে পারলে বাংলাদেশ পৌঁছেযাবে বিশ্বকাপে। বাংলাদেশ হেরে গেলে সমান পয়েন্ট নিয়েও রান রেটে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেবে নিউ জিল্যান্ড।

ওয়ার্নার পার্কে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে সফরকারীরা। অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার ফারজানা হক ও মুর্শিদা খাতুন ভালো শুরুর আভাসও দেন। কিন্তু আবারও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ দুজন।

৩৪ রানের উদ্বোধনী জুটি থামে মুর্শিদার (১২) বিদায়ে। ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা ফারজানা থেমে যান ১৮ রান করে।

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শারমিন আক্তার যখন আউট হন ১১ রানেই, বাংলাদেশের অপেক্ষায় তখন বিপর্যয়। তবে ধস নামতে দেননি অধিনায়ক নিগার। চতুর্থ উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন তিনি সোবহানা মোস্তারির সঙ্গে।

সোবহানা স্বভাবজাত ব্যাটিংয়ে একটি চার ও ছক্কা মারেন, তবে বরাবরের মতোই ইনিংস টেনে নিতে ব্যর্থ (২৩)। একাদশে ফেরা অভিজ্ঞ ফাহিমা খাতুনও (৪) বিদায় নেন দ্রুত।

নিগার এরপর কিছুটা লড়াই করেন স্বর্ণা আক্তারকে সঙ্গী করে। এই জুটিতে আসে ৩৮ রান। স্বর্ণার ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ২১।

একাদশ ওভারে ক্রিজে যাওয়া নিগার এক প্রান্ত আগলে রেখে ৪৯তম ওভারে আউট হন নবম ব্যাটার হিসেবে। ওয়ানডেতে পঞ্চম ফিফটিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক করেন ১২০ বলে ৬৮ রান।

চার রানের মধ্যে শেষ তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

আগের ম্যাচের অভিজ্ঞতায় এই পুঁজি যথেষ্ঠ হওয়ার কথা নয়। তবে, বাংলাদেশের উজ্জীবিত বোলিং-ফিল্ডিংরয়র কাছে হার মানে ক্যারিবিয় নারীরা।

বাংলাদেশের প্রথম বাধা ছিল হেইলি ম্যাথিউস ও কিয়ানা জোসেফের উদ্বোধনী জুটি। প্রথম ম্যাচে ১৬৪ রানের বন্ধ গড়েছিলেন দুজন। এবার কাউকেই দাঁড়াতে দেয়নি মারুফা-নাহিদারা।

তৃতীয় ওভারে জোসেফকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন মারুফা। প্রথম পরিবর্তন বোলার হিসেবে আক্রমণে এসেই দলকে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উইকেট এনে দেন নাহিদা। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ও ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ম্যাথিউসকে ফেরান তিনি ১৬ রানে। এরপর ডেন্ড্রা ডটিনকে ২ রানেই বিদায় করেন মারুফা। উজ্জীবিত বাংলাদেশ এরপর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়নি স্বগতিকদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৮.৫ ওভারে ১৮৪ (ফারজানা ১৮, মুর্শিদা ১২, শারমিন ১১, নিগার ৬৮, সোবহানা ২৩, ফাহিমা ৪, স্বর্ণা ২১, রাবেয়া ১, নাহিদা ৯, মারুফা ১*, তৃষ্ণা ০; ডটিন ৬-১-৮-১, ফ্রেজার ৪-০-২৫-১, অ্যালেইন ৫.৫-০-২৪-৩, ফ্লেচার ১০-১-৩৬-১, ম্যাথিউস ১০-০-৪৪-০, রামহারাক ১০-০-৩৩-৪, জেমস ৩-০-১৩-০)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৫ ওভারে ১২৪ (ম্যাথিউস ১৬, জোসেফ ৬, ক্যাম্পবেল ২৮, ডটিন ২, গ্লাসগো ৭, অ্যালেইন ১৫, মাংরু ৬, জেমস ১, ফ্লেচার ৭, ফ্রেজার ১৮*, রামহারাক ১৩; মারুফা ৮-০-৩৫-২, তৃষ্ণা ৪-১-১৮-০, নাহিদা ১০-০-৩১-৩, রাবেয়া ৮-০-১৯-২, ফাহিমা ৫-০-১৭-২)।

ফল: বাংলাদেশ ৬০ রানে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজ ১-১ সমতা।

প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: নাহিদা আক্তার।

 

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ