
এবারের বিপিএলে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে আছেন তানজিদ হাসান। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে অপরাজিত রইলেন ৯০ রান করে। কারন লক্ষ্যই যে খুব বেশি ছিল না! তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটের জয় পেল ঢাকা ক্যাপিটালস। আর নিজেদের মাঠে হার দিয়ে চট্টগ্রাম পর্ব শেষ করল চিটাগং কিংস।
৫৪ বলে ৯০ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৩ চারের সঙ্গে ৭টি ছক্কা মারেন তানজিদ। এবারের আসরে তার মোট ছক্কা হলো ২৯টি। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক আসরে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
তানজিদের রেকর্ড গড়ার ম্যাচে প্রথম ইনিংসেই অর্ধেক কাজ করে দেন বোলাররা। চিটাগংকে মাত্র ১৪৮ রানে আটকে রাখেন মুস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেনরা। পরে ১১ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে যায় ঢাকা।
দুই দলের প্রথম লড়াইয়ে ১৭৭ রান করেও জিততে পারেনি তারা। সিলেটে ওই ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতেছিল চিটাগং।
প্রতিশোধ এই ম্যাচে প্লে-অফ খেলার আশাও বাঁচিয়ে রাখল ঢাকা। দশ ম্যাচে তৃতীয় জয়ে চার নম্বরে উঠে গেছে দলটি। এক ম্যাচ কম খেলে পাঁচ জয়ে তাদের ঠিক ওপরে কিংস।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় চিটাগং। ইনিংসের শুরুতে মেডেন দিয়ে শুরু করা মুস্তাফিজ ৪ ওভারে খরচ করেন মাত্র ১৮ রান। পুরো স্পেলে মাত্র ২টি বাউন্ডারি হজম করেন এই বাঁহাতি পেসার। এছাড়া ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মোসাদ্দেক। এক ওভারে নাজমুলের জোড়া উইকেটও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
রান তাড়ায় প্রথম দুই ওভার দেখেশুনে কাটিয়ে দেন তানজিদ ও লিটন কুমার দাস। খালেদের বলে বাউন্ডারি মেরে ডানা মেলে দেন তানজিদ। এক বল তিনি মারেন ছক্কা। চতুর্থ ওভারে শরিফুল ইসলামের শেষ দুই বল ওড়ান ছক্কায়।
শরিফুলের বলে দ্বিতীয় ছক্কাটি ছিল চলতি আসরে তার ২৫তম। ওই ছক্কায়ই হৃদয়কে ছাড়িয়ে যান তানজিদ।বাঁহাতি ওপেনারের ঝড়ে পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৭ রান করে ঢাকা। অন্যপ্রান্তে তানজিদ একের পর এক স্ট্রোক খেললেও ঠিক ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না লিটন। ২৫ রান করতে তিনি খেলেন ২৮ বল।
তবে তানজিদ একই ছন্দে খেলতে থাকায় রানের চাপে পড়েনি ঢাকা। চার নম্বরে নামা সাব্বির রহমানও ইতিবাচক ব্যাটিং করেন শুরু থেকেই। খালেদের বলে চমৎকার লফটেড ড্রাইভে ছক্কা মারেন তিনি।
খালেদের পরের ওভারে ফ্লিক করে নিজের সপ্তম ছক্কাটি মারেন তানজিদ। পরে শরিফুলের বলে ম্যাচ জেতানো শটটিও তার ব্যাট থেকেই আসে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চিটাগং কিংস: ২০ ওভারে ১৪৮/৬ (নাঈম ৪৪, আকবারি ২৩, ক্লার্ক ১৯, তালাত ২, শামীম ১৫, হায়দার ১৬, মিঠুন ১২, খালেদ ৮*; মুস্তাফিজ ৪-১-১৮-০, বিটন ৪-০-৩৫-১, মোসাদ্দেক ৩-০-১৩-২, মেহেদি ৪-০-৩১-১, পেরেরা ২-০-২০-০, নাজমুল ৩-০-২৭-২)
ঢাকা ক্যাপিটালস: ১৮.১ ওভারে ১৪৯/২ (তানজিদ ৯০*, লিটন ২৫, মুনিম ১২, সাব্বির ১৪*; শরিফুল ৩.১-০-৩৯-০, আলিস ৪-০-১৮-১, খালেদ ৪-০-৩৬-০, সানি ৩-০-২৪-০, তলত ৩-০-২৩-০, নাঈম ১-০-৪-০))
ফল: ঢাকা ক্যাপিটালস ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান


