বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬

স্বামী ও সন্তান মিলে পুড়িয়ে হত্যা করেন স্কুল শিক্ষিকা স্বান্তনা রায়কে

স্বামী ও সন্তান মিলে পুড়িয়ে হত্যা করেন ঠাকুরগাঁওয়ের স্কুল শিক্ষিকা স্বান্তনা রায় মিলি চক্রবর্তীকে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে সিআইডি।

বিএনপি নেতার সঙ্গে পরকীয়ার জেরেই তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী। মামলার তদন্ত শেষে স্বান্তনার  স্বামী, ছেলেসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

আসামিরা হলেন নিহত মিলির স্বামী সমির কুমার রায়, ছেলে রাহুল রায়, সমিরের ভাইয়ের ছেলে স্বপন কুমার রায় ওরফে মানিক ও মিলির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ানো জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সোহাগ।

তিনি আরো জানান, বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান স্কুলশিক্ষিকা মিলি চক্রবর্তী। তারা দুজন মোবাইলে ফেসবুকের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করতেন। আর মিলির ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড জানতেন তার ছেলে রাহুল রায়। তখন রাহুল তার মায়ের পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন ও ম্যাসেঞ্জারে তাদের বার্তা, ছবিসহ ভিডিও দেখে ফেলেন। পরে বিষয়টি তার স্বামীও জেনে যান। ২০২১ সালের ৮ জুলাই ঘটনার দিন মিলির সঙ্গে তাদের তর্ক হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও বুকে আঘাত করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বান্তনা।

পরে একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাসরত ভাতিজা মানিককে ডেকে পাঠান সমির। নিরাপত্তারক্ষীকে মিলিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির পাশের গলিতে নিয়ে যান রাহুল-সমির। সেখানে স্বান্তনার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৃহবধূ স্বান্তনার মৃত্যু একটি হত্যাকাণ্ড। তার বুক ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকলেও মৃত্যু হয়েছে আগুনে পুড়ে।

এ বিষয়ে সিআইডির সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী বলেন, ‘‘হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে সেই সময় আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল আসামিরা। তাই বার বার পুলিশের অনুরোধ সত্ত্বেও তারা মামলা করতে রাজি হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ১০ জুলাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।’’

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ