
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ৭৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভুয়া টেন্ডার ও বিল তৈরি করে নিজেদের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে উন্নয়ন ও রাজস্ব তহবিল থেকে ৭৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করা হয়।
মামলার অপর আসামি হচ্ছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া। বৃহস্পতিবার দুদকের বোর্ড সভায় মামলাটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪,০০,০১০ ভোট পেয়েছিলেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান উদ্দিন সরকার ‘ধানের শীষের’ প্রতীক নিয়ে ১,৯৭,৬১১ ভোট পান।
নভেম্বর ২০২১ সালে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের নিয়ে একটি মন্তব্যের অডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাধারণ সদস্য পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কার করা হয়। বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর কিছুদিন পর ঐ একই বছরের ২৫শে নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে অপসারণ করে। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে আওয়ামী লীগ তাকে ক্ষমা করা হয়।
২০২৩ সালের গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়া এবং নিজের প্রার্থিতা বাতিল হলেও মাকে নিয়ে নির্বাচনে থাকায় ১৫ মে আওয়ামী লীগ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।


