
জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য আমির হামজার একটি ওয়াজ মাহফিলের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান।
রাশেদ খাঁন তাঁর স্ট্যাটাসে লেখেন, “জামায়াত এমপি আমির হামজা আমাকে হত্যাযোগ্য করে তোলার জন্য ওয়াজমাহফিলে বক্তব্য দিয়েছে! ইতোপূর্বে ওয়াজমাহফিলে আমির হামজা বলেছিলেন, ‘তার চোদ্দগুষ্টি আওয়ামীলীগ। শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেছে, সেটি বাস্তবায়নে যে কাজ করবেনা, সে যে দলেরই হোক, সে জাহান্নামে যাবে।’ ফ্যাসিবাদের এই দোসরের এসব অপকর্ম টকশোতে তুলে ধরার জন্য সে হয়তো আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। রাজনৈতিক ময়দান থেকে যদি আমির হামজা আমার বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য দিতো, সেটাকে রাজনৈতিকভাবেই দেখতাম। কারণ আমি জানি, রাজনৈতিক কর্মীরা এসব বক্তব্যকে রাজনৈতিক হিসেবে নেয়। কিন্তু ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট কাজে লাগিয়ে ওয়াজ মাহফিলে আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া আমার জীবনের জন্য থ্রেট। তার এই বক্তব্যের পরে আমির হামজার উগ্রবাদী সমর্থক গোষ্ঠী আমার উপর মব করতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। যদি আমার কোন ক্ষতি হয়, এর দায় আমির হামজাকে নিতে হবে।”
উল্লেখ্য রাশেদ খাঁন, দীর্ঘ সময় গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দলটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি তাকে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেয়। তবে এই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে নুরুল হক নুরের সাথে মিলে গণঅধিকার পরিষদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।


