
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সমালোচনার মুখে থাকা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ করা হোক—এমনটি চান না ভুক্তভোগী পরিবারগুলোও। তবে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এমন দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে ‘পরিবার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উভয়েই মনে করেন, এই ঘটনার কারণে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হওয়া উচিত নয়। তবে যার বা যাদের অবহেলায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
নিজের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে শিশির মনির বলেন, তিনি এ ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করে বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “আইনজীবী মানেই এক পক্ষের হয়ে আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের পথও খোঁজা হয়। এখানে আমার ভূমিকাও সেই ধরনের।”
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের ভবনকে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার জন্য অনুপযুক্ত উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনের অবহেলার বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শিশির মনির বলেন, হাসপাতালের বিরুদ্ধে জারি করা নোটিশটি আইনসম্মত নয় এবং আইন অনুযায়ী এর জবাব দেওয়া হবে।
তিনি দাবি করেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করার মতো কোনো আইনি ভিত্তি এ ঘটনায় এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
শিশির মনির আরও বলেন, “শাস্তি দিতে হলে অবশ্যই আইন অনুসারে দিতে হবে। তবে শাস্তি দিতে গিয়ে লাখ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ক্ষতি হয়, এমন সিদ্ধান্তও বিবেচনার দাবি রাখে।”
তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নিজস্ব তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে দায়িত্বে থাকা দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সবুর, আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আফিকুর রহমান, হাসপাতালের মহাপরিচালক নাহিদ ইয়াসমিন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


