
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রসিকতার ছলে তিনি বলেন, অন্তত আটটি যুদ্ধ মিটমাট করলেও তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে নিজের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক তৎপরতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার সময় এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। আমেরিকানদের আবিষ্কার, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং বিশ্বে দেশটির প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি নোবেল প্রসঙ্গ টানেন।
ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি অলিম্পিক পদক এবং সবচেয়ে বেশি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছে। এরপরই হাস্যরসের সুরে তিনি বলেন, “কিন্তু আমাকে একটিও দেওয়া হয়নি।”
তিনি দাবি করেন, অন্তত আটটি যুদ্ধ মিটমাট করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখলেও নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য তাকে বিবেচনা করা হয়নি। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের দীর্ঘদিন ধরে করে আসা একটি অতিরঞ্জিত দাবি।
মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের জন্য পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য, অর্থনীতি এবং শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ৪২০ জনেরও বেশি মার্কিন নাগরিক নোবেল পেয়েছেন, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ ট্রাম্পের নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে আসছেন। গত জানুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি এই পুরস্কারের যোগ্য আর কেউ নেই।
তবে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। পরে তিনি প্রতীকীভাবে নিজের পদক ট্রাম্পকে উৎসর্গ করার ঘোষণা দিলেও নোবেল কমিটি জানিয়ে দেয়, এটি কেবল প্রতীকী উদ্যোগ। কমিটির ভাষ্য, ইতিহাসে প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে নোবেলজয়ীর নামই সংরক্ষিত থাকবে।
হোয়াইট হাউসের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের। গত আগস্টে তার প্রথম মেয়াদের এক সাবেক সহযোগীও দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প এই পুরস্কারকে নিজের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের অন্যতম বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন। উল্লেখ্য, ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুইজন ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট—উড্রো উইলসন (১৯২০) ও বারাক ওবামা (২০০৯)—নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন।
১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা গ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার সূচনা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৭৮৩ সালের প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেয়। প্রতি বছর ৪ জুলাই দেশটি স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে এবং ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে।


