
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ঘিরে আবারও বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সম্পাদিত ছবি পোস্ট করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মেলোনি তার প্রতি ‘অতিরিক্ত আসক্ত’। এমনকি নিজের ‘সুরক্ষার’ জন্য ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ (আইনি নিষেধাজ্ঞা) প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠকের ঠিক আগে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি এডিট করা ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেলোনি ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে হাসছেন। ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লেখেন, ‘Need a Restraining Order’।
একই সময়ে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে নিয়েও একটি বিকৃত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে এয়ার ফোর্স ওয়ানের গায়ে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি দেখা যায়।
ট্রাম্প ও মেলোনিসহ ন্যাটোভুক্ত ৩২ সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের তুরস্কে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকের আগে ট্রাম্পের এই পোস্ট ওয়াশিংটন-রোম সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
দুই নেতার এই বিরোধের সূত্রপাত গত সপ্তাহে। তখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন, এমনকি একপ্রকার ‘অনুনয়-বিনয়’ করেছিলেন।
ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ক্ষোভ প্রকাশ করে তার নির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন।
অন্যদিকে মেলোনি ট্রাম্পের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ইতালির সংবাদ সংস্থা আদনক্রোনোসের বরাত দিয়ে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল রেতে ৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইতালি এবং আমি কখনোই কারও কাছে ভিক্ষা বা অনুনয় করি না।’
তিনি আরও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নন। তবে অতীতে যেমন কারও সামনে মাথা নত করেননি, ভবিষ্যতেও করবেন না। তার ভাষায়, পশ্চিমা বিশ্বের শক্তি ঐক্যে, আর সেই ঐক্যের অংশ হিসেবেই ইতালি কাজ করে যাচ্ছে। তবে শক্তিশালী সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক স্পষ্টবাদিতা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক সামরিক অবস্থানে ইতালির অনীহা, ইউরোপের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের ধারাবাহিক সমালোচনা এবং সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত মন্তব্য—সব মিলিয়ে ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।


