বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে শেষ হাসি ইংল্যান্ডের; মেক্সিকোর বিদায়

ম্যাচ শুরুর বাঁশি থেকেই ছিল স্বাগতিক মেক্সিকোর দাপট। অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের গর্জন আর স্বাগতিক সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। তবে ফুটবল যে সুযোগ কাজে লাগানোর খেলা, সেটি আবারও প্রমাণ করলেন জুড বেলিংহ্যাম।

ম্যাচের গতির পুরো বিপরীতে মাত্র ৯০ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার। শুরুতে চাপে থাকলেও মুহূর্তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় থ্রি লায়ন্স।

তবে হাল ছাড়েনি মেক্সিকো। বিরতির আগে হুলিয়ান কুইনোনেস গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। এতে দ্বিতীয়ার্ধের জন্য ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর ইংল্যান্ডের কাজ আরও কঠিন হয়ে যায়। ডিফেন্ডার এজরি কনসা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইংলিশরা। কিন্তু একজন কম নিয়েও দারুণ লড়াই চালিয়ে যায় তারা।

পাল্টা আক্রমণে উঠে অ্যান্থনি গর্ডন পেনাল্টি আদায় করে নেন। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে হ্যারি কেইন গোল করে ইংল্যান্ডকে আবারও দুই গোলের ব্যবধানে (৩-১) এগিয়ে দেন।

এরপরও নাটক শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। রাউল হিমেনেজ গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন। শেষ মুহূর্তে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্বাগতিকদের হাতে। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও সমতার গোল আর পাওয়া হয়নি।

অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন হিমেনেজ। ডান দিক থেকে ভেসে আসা বল গোলমুখে ছুঁয়ে দিতে পারলেই সমতা ফিরত। কিন্তু তার স্পর্শের আগেই বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। শেষ কর্নার থেকেও গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয় মেক্সিকো।

শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের দৃঢ়তা, ১০ জনের দলের অসাধারণ রক্ষণ এবং বেলিংহ্যামের জোড়া গোলের ওপর ভর করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।

রুদ্ধশ্বাস এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে থ্রি লায়ন্স। নাটকীয়তা, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং শেষ মুহূর্তের শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনায় ম্যাচটি ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা লড়াই হিসেবে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ