স্কুলে ভর্তিতে ১৪ শতাংশ কোটা, কোন শ্রেণিতে বয়স কত?

সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির কথা বলা হয়েছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তির বয়সসীমা নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারি বিদ্যালয়ে মোট ১৪ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস।

কোন শ্রেণিতে ভর্তির বয়স কত?

নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর বয়স বিবেচনায় নিয়ে শ্রেণিভিত্তিক ভর্তির বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ বয়স ৭ বছর হতে হবে।

শ্রেণিভিত্তিক বয়সসীমা হলো—

  • প্রথম শ্রেণি: ৫ থেকে ৭ বছর
  • দ্বিতীয় শ্রেণি: ৬ থেকে ৮ বছর
  • তৃতীয় শ্রেণি: ৭ থেকে ৯ বছর
  • চতুর্থ শ্রেণি: ৮ থেকে ১০ বছর
  • পঞ্চম শ্রেণি: ৯ থেকে ১১ বছর
  • ষষ্ঠ শ্রেণি: ১০ থেকে ১২ বছর
  • সপ্তম শ্রেণি: ১১ থেকে ১৩ বছর
  • অষ্টম শ্রেণি: ১২ থেকে ১৪ বছর
  • নবম শ্রেণি: ১৩ থেকে ১৫ বছর

শিক্ষার্থীর বয়স প্রমাণের জন্য ভর্তির আবেদনপত্রের সঙ্গে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ১ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর। নীতিমালায় প্রতি শ্রেণির একটি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি স্কুলে থাকছে ১৪ শতাংশ কোটা

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণির ভর্তিতে মোট ১৪ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটার আওতায় সংরক্ষিত থাকবে। নীতিমালা অনুযায়ী, কোটাগুলো হলো—

  • বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা: ৫ শতাংশ
  • বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: ২ শতাংশ
  • শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তান: ২ শতাংশ
  • সহোদর বা সহোদরা শিক্ষার্থী: ৩ শতাংশ
  • যমজ ভাই-বোন: ২ শতাংশ

এ ছাড়া ঢাকা মহানগরের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছে। বদলিজনিত কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রতি শাখায় আরও ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন রাখার নির্দেশনাও রয়েছে।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে লটারিতে

নীতিমালায় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবে। তবে ডাবল শিফটের কোনো বিদ্যালয়ের উভয় শিফট পছন্দ করলে তা দুটি পছন্দ হিসেবে গণ্য হবে।

একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করলে সব আবেদন বাতিল হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমানসংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকাও তৈরি করা হবে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভর্তি কার্যক্রম তদারকির জন্য ঢাকা মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করা হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ