রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

জামায়াত তাড়াহুড়ো করে ক্ষমতায় যেতে চায় না, কেউ যাক সেটিও চাই না: শফিকুর রহমান

জামায়াত তাড়াহুড়ো করে ক্ষমতায় যেতে চায় না, কেউ তাড়াহুড়ো করে ক্ষমতায় যাক সেটিও চাই না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

জয়পুরহাট সার্কিট হাউস মাঠে জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর বলেন, স্বাধীনতা পেলাম ৫৪ বছর। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় একটি জাতি বিশ্বের দরবারে মার্যাদাবান জাতি হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট সময় ছিল। কেউ যদি বলে স্বাধীনতার পরে এ জাতির জন্য ভালো কিছুই হয়নি, আমি একমত হবো না। অনেক কিছুই ভালো হয়েছে। কিন্তু যদি দুর্নীতি ও দু:শাসন না থাকতো, তাহলে অকল্পনীয়ভাবে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতো। দুর্নীতি ও দু:শাসনের কারণে আমরা স্বাধীনতার সেই ফসলটুকু ভোগ করতে পারলাম না। সম্প্রতি দু:শাসন আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।

জামায়াতের আমির আরো বলেন, আমাদের সম্মানিত সহকর্মী, সিরিয়াল করে এক থেকে এগারোজনকে আমাদের বুক থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। মহান রবের দরবারে দোয়া করি, আল্লাহ তোমার এই গোলামদেরকে বিশেষ ভালোবাসার গোলাম হিসেবে কবুল করুন। তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। জান্নাতের দরজা তাদের জন্য তুমি নির্ধারিত করে দাও। সম্মানিত ভাইয়েরা, তাদের ওপর যখন জলুম হয়, মিথ্যা অভিযোগে বিচারের নামে অবিচার করা হয়। তখন এদেশের লাখ-কোটি মুসলমান এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। এক এক করে অনেককে জালেমদের হাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। অনেকে পুঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, অনেকে জেলে গিয়েছেন, অনেকে দেশ ছাড়া হয়েছেন। সারা বাংলাদেশের চিত্র এক এবং অভিন্ন। আমাদের শত শত ভাই-বোনকে খুন করা হয়েছে। বোনদের মাঝে আমাদের জয়পুরহাটেও একজন বোন ছিলেন, যাকে খুন করা হয়েছে। অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করা হয়েছে। দফায় দফায় মামলা দিয়ে রিমান্ড নিয়ে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তরতাজা যুবকদেরকে ধরে নিয়ে থানার ফ্লোরে চিৎ করে শুইয়ে রাইফেলের ব্যারেল ঠেকিয়ে তাদেরকে গুলি করে পা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। চোখে গুলি করে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ রকম শত শত ঘটনা রয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) এক মাসের ভেতরে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষকে খুন করলেন। ছাত্র-জনতা এজন্য জীবন দেয় নাই যে, যেন-তেনভাবে ক্ষমতায় বসে যাব। তারা জীবন দিয়েছে একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে। একটা মানবিক বাংলাদেশ তারা দেখতে চায়। একটা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায়। এই দেশে আবার দুঃশাসন ফিরে না আসুক, তা তারা দেখতে চায়। তাই যদি করতে হয় তাহলে অর্থবহ নির্বাচনের দিকে যেতে হবে জাতিকে। আর সেই নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কার সাধন করতে হবে। এজন্য জামায়াতে ইসলামী ৫ তারিখেই বলে দিয়েছে- এই সরকারকে আমরা যৌতিক সময় দিতে চাই। প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনের জন্য। তাড়াহুড়ো করে আমরা নিজেরাও ক্ষমতায় যেতে চাই না। কেউ তাড়াহুড়ো করে ক্ষমতায় যাক, সেটিও আমরা চাই না।

জেলা জামায়তের আমির ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম খান। বিশেষ মেহমানের বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া অঞ্চল টিমের সদস্য মাওলানা আব্দুর রহিম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জামায়াতের বগুড়া জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক, সিরাজগঞ্জ জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা শাহিনুর আলম প্রমুখ।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ