খায়রুল হকের ক্ষমতার অপব্যবহার ও যত অপকর্ম

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ক্ষমতার অপব্যবহার করে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন দেশকে। প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসরের পরও শুধুমাত্র নিজের লোভের কারণে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে দ্বিধাবোধ করেননি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। তিনি এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন ও বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তাঁর সাথে জড়িত ছিলেন। আপিল বিভাগের সাত সদস্যের গঠিত বেঞ্চে প্রকাশ্যে দেওয়া রায়ের মূল অংশে ছিল পরবর্তী দুইটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু চূড়ান্ত রায়ে ওই অংশটুকু গায়েব করে দেন খায়রুল হক। তাঁর সাথে তখন একমত হন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন ও বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক, জিয়া নন
২০০৯ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জিয়া নন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে রায় দেন। রায়ে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উপস্থাপন করে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ ও দলিলপ্রত্র’ এর তৃতীয় খন্ড বাতিল ঘোষণা করেন। খন্ডটি দেশ-বিদেশের সব স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বাধ্যতামূলকভাবে সন্নিবেশ করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন।

দুই বিতর্কিত বিচারপতির শপথ
প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তিনি বিতর্কিত দুইজন বিচারপতিকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান। এই দুই বিচারপতি হলেন, একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস। আরেকজন হলেন বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান।

আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া
প্রধান বিচারপতি হিসেবে এবিএম খায়রুল হকের আরো একটি বিতর্কিত রায় হচ্ছে আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া। তিনি ও বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের বেঞ্চ হাইকোর্টে আগাম জামিন আপিল রায়ের মাধ্যমে এখতিয়ার কেড়ে নেন।

খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদে তাঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আপিল বিভাগে শুনানি ছাড়াই বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। একতরফা এ রায় দেন এবিএম খায়রুল হক এবং বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের বেঞ্চ।

ত্রান তহবিলের টাকায় নিজের চিকিৎসা
হাইকোর্টের বিচারপতি থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন করেন এবিএম খায়রুল হক। আবেদনের পর ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে চিকিৎসার জন্য অনুদান দেওয়া হয়।

ক্ষমতার অপব্যবহার
আইন কমিশনের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ২০১৩ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কমিশনের গাড়িচালক এসএম শামসুল আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠান খায়রুল। সম্প্রতি তিনি চাকরি ফেরত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেছেন।

নিজের জন্য প্লট নিতে অনিয়মের আশ্রয়
২০০৩ সালে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার প্লট পান বিচারপতি খায়রুল হক। প্লট বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী প্রথম কিস্তির ছয় লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ না করায় রাজউক তাঁর প্লট বরাদ্দ বাতিল করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তিনি বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও অসাধু কর্মকর্তাদের আশ্রয় নিয়ে পুনরায় আইন ও বিধিবহির্ভূতভাবে নিজের নামে প্লট বরাদ্দ নেন। পুরো টাকা এখনো জমা না দিয়ে ১ম কিস্তির টাকার যে চেক জমা দিয়েছিলেন তা নগদায়ন হয়নি।

দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে ২৪ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ দেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ