মন ভালো রাখতে নিয়মিত এই ১০টি কাজ করুন

বর্তমান নাগরিক জীবনে মানসিক চাপ ও হতাশা জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকে হয়তো জানেনই না কোথা থেকে শুরু করবেন। তবে, মনে রাখতে হবে মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখাটা খুবই জরুরি।

প্রতিদিন নিজের মনের খোঁজ নিন
প্রতিদিন নিজের মনের আবেগ ও অনুভূতি যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাবুন, আপনি এখন কেমন অনুভব করছেন। শরীর কি বলছে, কি করলে নিজের ভালো লাগবে। এছাড়া নিজের আবেগ মুড মিটার চার্ট ব্যবহার করতে পারেন।

নিশ্চত করুন পর্যাপ্ত ঘুম
ভালো ঘুম আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই অপরিহার্য। প্রতিদিন নিয়মিত সাত ঘন্টা ঘুমানো উচিত। তাই প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান। ঘর ঠান্ডা রাখুন। বিছানায় যাওয়ার ৩০ মিনিট আগে ঘরের লাইট ও সব স্ক্রিন বন্ধ করে দিন। এক গবেষণায় দেখা গেছে ভালো ঘুম বিষণ্ণতা, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

খুঁজে নিন ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্তগুলো
প্রতিদিনের ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখুন নিজের করে। যেমন নাস্তার পর সকালের এক কাপ চায়েও পেয়ে যেতে পারেন আপনার আনন্দের মুহূর্ত। তাই জীবনের ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে শিখলে দিনটা আনন্দে কাটে।

ব্যবহার করুন ৯০ সেকেন্ডর রুল
আমরা অনেক সময় কাজে থাকলে অথবা বেশি চিন্তা করলে মানসিক চাপে পড়ে যাই। বুঝে উঠতে পারিনা তখন কি করব। মস্তিষ্ক উত্তপ্ত হয়ে যায়। এই সময়টাতে অনেকেই ভেঙ্গে পড়েন। আর অতিরিক্ত চিন্তা করা মানুষের স্বাভাবিক অভ্যাস। এক গবেষণায় দেখা গেছে এই চিন্তাগুলো সাধারণত ৯০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। তাই সেই সময় নিজেকে ৯০ সেকেন্ড সময় দিন। এরপর ধীরে ধীরে আপনি শান্ত হয়ে যাবেন।

শুরু করতে পারেন থেরাপি
থেরাপি শুধু গভীর বিষণ্ণতা বা ট্রমার জন্য নয়; আপনি যদি নিজের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে আগ্রহী হন তার জন্যও থেরাপি রয়েছে। এ সময়টায় বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের সাথে কথা বলুন, যাতে নিজেকে একা মনে না হয়।

ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ রাখুন
এখন আপনি কেমন অনুভব করছেন, তারচেয়ে ভবিষ্যতে কেমন থাকতে চান তা ভাবুন। ছোট ছোট লক্ষ ঠিক করে সঠিক পরিকল্পনায় এগিয়ে যান। ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ পূরণের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নিন। ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করে নিজেকে পুরস্কৃত করা এবং প্রতিটি ছোট বড় অর্জনকে উপভোগ করাও ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রিয় কাজগুলো করুন
কেউ যখন টেনশনে থাকেন তখন তিনি যে কাজে আনন্দ পান সেগুলো বাদ দিয়ে দেন। তবে, এগুলো নিয়মিত রাখা জরুরি। অল্প সময় হলেও প্রতিদিন নিজের একটি প্রিয় কাজ করুন।

সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখুন
একাকিত্ব কাটানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখুন। প্রতিবেশীর সাথে কথা বলা কিংবা বন্ধুদের সাথে নিয়মিত আড্ডা দিন। কাছের মানুষটিকে নিয়ে কফি শফে গিয়ে চুমুক দিন ধোঁয়া ওঠা এক কাপ গরম কফিতে।

চর্চা করুন মননশীলতার
মননশীলতা বা মান্ডফুলনেস হলো বর্তমানে যা ঘটছে তা সচেতনভাবে অনুভব করা। চারপাশে যা ঘটছে তা লক্ষ করুন। শব্দগুলো মনযোগ দিয়ে শুনুন। এমন তিনটি জিনিস স্পর্শ করুন যা আপনার হাত অথবা শরীর অনুভব করে। যে কোনো দুটি জিনিসের ঘ্রান নিন। কিছু খেয়ে তার স্বাদ অনুভব করুন।

নিজের প্রতি সহানুভতিশীল হোন
অতিরিক্ত চাপ নেবেন না। নিজের প্রতি সদয় হওয়া মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু এক দিনে ঠিক হবে না, ধৈর্য ধরুন।

সূত্র: কসমোপলিটন

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ