নীরব ব্যথার ভয়াবহতা: ১২টি লক্ষণে ধরা পড়ে কিডনিতে পাথর

কিডনিতে পাথরের লক্ষণ শুরুতে অনেকেই বুঝতে পারেন না, ফলে সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল আকার নেয়।

ঢাকার মিরপুরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবার। পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই বয়সের দম্পতি রফিক ও শিউলি। কয়েক সপ্তাহ ধরে রফিকের কোমরে অস্বস্তিকর ব্যথা। প্রথমে গুরুত্ব দেননি—ভেবেছিলেন বয়সজনিত সমস্যা। কিন্তু হঠাৎ প্রস্রাবে জ্বালা ও তীব্র যন্ত্রণা শুরু হলে শিউলি তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, রফিকের কিডনিতে পাথর হয়েছে। চিকিৎসকের ভাষায়, কিডনিতে পাথর একটি নীরব কিন্তু ভয়ংকর সমস্যা, যা শুরুতে অবহেলায় ধরা পড়ে না। তাই কিডনি সুস্থ রাখার উপায় সম্পর্কে আগেভাগে জানা থাকলে বড় জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

কিডনিতে পাথরের লক্ষণ কী কী? কোমরের ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা বা রক্তসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ জানলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

১. কোমর বা পিঠের এক পাশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা

২. ঢেউয়ের মতো ব্যথা, যা কমে–বাড়ে

৩. প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা

৪. ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ

৫. অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া

৬. প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া

৭. প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া

৮. বমি বমি ভাব বা বমি

৯. জ্বর ও কাঁপুনি

১০. পেটের নিচে চাপ বা অস্বস্তি

১১. প্রস্রাব আটকে যাওয়া

১২. দুর্বলতা ও অস্থিরতা

চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ কোমর বা পিঠের এক পাশে তীব্র ব্যথা কিডনিতে পাথরের প্রধান লক্ষণ। এ ব্যথা অনেক সময় তলপেট বা কুঁচকিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রস্রাবের সময় জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, অথচ অল্প প্রস্রাব হওয়া—এসবও সতর্ক সংকেত। প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া, প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়াও কিডনিতে পাথরের লক্ষণ হতে পারে।

এ ছাড়া বমি বমি ভাব, বমি, জ্বর ও কাঁপুনি, পেটের নিচে চাপ অনুভব, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, অস্থিরতা এবং দুর্বলতাও এই রোগের সঙ্গে জড়িত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লক্ষণগুলো একসঙ্গে নাও দেখা দিতে পারে, তবে একাধিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

রফিকের মতো অনেকেই শুরুতে ব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। চিকিৎসকদের সতর্কতা—সময়মতো সচেতন হলে কিডনিতে পাথর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, আর অবহেলা করলে তা বড় ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।

স্বাস্থ্যই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। শরীরের ছোট পরিবর্তনও বড় সংকেত হতে পারে—এ সত্য ভুলে গেলে চলবে না। নিয়মিত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সচেতন জীবনযাপন কিডনিকে সুস্থ রাখে। কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—কারণ সময়মতো পদক্ষেপই পারে আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে।

সূত্র: https://www.nhs.uk/conditions/kidney-stones/

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ