পরিবর্তন আসছে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসায়

সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন ব্যবস্থায় কিছু নীতিগত পরিবর্তন ও পরিমার্জন করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। সামগ্রিক অভিবাসনপ্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়াতে পড়াশোনা করতে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আপিল করার পদ্ধতিতে একটি নতুন নিয়ম যুক্ত হয়েছে। ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার পর কোন শিক্ষার্থী যদি দেশটির ‘প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা ট্রাইব্যুনাল’ বা এআরটিতে আপিল করেন, তবে এখন আর সরাসরি উপস্থিত হয়ে শুনানির প্রয়োজনীয়তা থাকছে না। এখন থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখেই ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।

প্রশিক্ষণ বা ‘ট্রেনিং ভিসা’ (৪০৭)-এর ক্ষেত্রে এখন যারা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন এবং যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের স্পন্সর করেছে তাদের কার্যক্রমের ওপর দেশটির অভিবাসন দপ্তর কিছুটা নিবিড় নজরদারি শুরু করেছে। অনেক সময় সরাসরি বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তারা গিয়ে দেখছেন নির্ধারিত নিয়ম মেনে সঠিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ ও কাজ হচ্ছে কিনা।

দেশটির প্রত্যন্ত বা আঞ্চলিক এলাকায় দক্ষ কর্মী নিয়োগের যে ভিসাব্যবস্থা (সাবক্লাস ৪৮২ ও ৪৯৪ ভিসা) রয়েছে, সেখানেও আগামী জুলাই মাস থেকে নতুন নিয়ম আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্মী নিয়োগের জন্য ন্যুনতম বার্ষিক বেতনসীমা প্রায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ওই অঞ্চলের রেস্তোরাঁ বা ছোট ব্যবসার মালিকদের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে হিসাব নিকাশ করতে হবে।

দক্ষ পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাইকরণ বা ‘স্কিল অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতির নির্দেশিকাগুলোর ভাষা সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে কিছুটা সহজ করা হয়েছে। তবে মূল নিয়মে কোন পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় চার মাস পর্যন্ত সময় লাগছে।

অন্যদিকে আগামী অর্থবছরের জন্য ‘প্যারেন্ট ভিসা’ বা অভিবাবক ও পারিবারিক ভিসার জন্য নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। এই ক্যাটগরিতে আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ হাজার ৮০০টি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ