কিয়েভসহ তিন অঞ্চলে রুশ বাহিনীর ভয়াবহ হামলা, নিহত ২৮

রুশ বাহিনী সোমবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিজ্জিয়া এবং সীমান্তবর্তী সুমি অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে তিন অঞ্চল মিলিয়ে মোট ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৮ জন কিয়েভের বাসিন্দা এবং ৬ জন রাজধানীর আশপাশের উপশহরের। জাপোরিজ্জিয়া ও সুমি অঞ্চলে ২ জন করে নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া এদিন সকালে মোট ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৭টি ক্রুজ ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ৩৭টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোনের প্রায় ৯০ শতাংশ আটকে দিতে পেরেছে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো সম্ভব হয়নি।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লাইমেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, কিয়েভে অন্তত ৩০টি বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ চলছে। হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এক ভিডিওবার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেশের অভ্যন্তরে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও দূরপাল্লার প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি চেয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমই একমাত্র কার্যকর অস্ত্র।

জেলেনস্কি আরও বলেন, “আধুনিক বিশ্বে ব্যালিস্টিক সন্ত্রাস থেকে মানুষকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় উৎপাদন এখনো বাড়ানো হয়নি, যা একেবারেই অযৌক্তিক।” ইউক্রেনের কাছে প্রযুক্তিগত জ্ঞান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র লাইসেন্স দিলে ইউক্রেন শুধু নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না, প্রয়োজনে সহযোগী দেশগুলোকেও সহায়তা করতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ