
সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এখনো হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হয়নি, তবে যে কোনো সময় এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে।
শনিবার বরিশাল নগরীর ভাটারখাল এলাকায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও জনগণের রায়ের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। তার ভাষায়, “মুখে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই।”
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দলটি ১৬ বছর গণতন্ত্রের কথা বললেও ৫ আগস্টের পর থেকে গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, বিএনপি কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না; বরং ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া একটি ‘প্রহসন’। তিনি বলেন, সরকার যদি প্রকৃত সংস্কারে রাজি না হয়, তাহলে এনসিপি নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং নতুন গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি তুলবে।
কর্মসংস্থান নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা হয়নি। বরং দেশে চাঁদাবাজির বিস্তার ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ, সীমান্ত সুরক্ষা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলাম। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আবারও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে হবে।”
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য দেন। এর আগে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সমবেত হন।


