রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

বায়ান্নর ভাষা অন্দোলনে শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বাঙ্গালীর প্রানের অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, “বরকত, সালাম, রফিক, জাব্বারের বুকের রক্তে যে অঙ্গীকার মাখা ছিল তাতে ছিল জুলাই অভ্যুত্থানকে নিশ্চিত করার মহাবিস্ফোরক শক্তি। অর্ধশতাব্দী পর এই মহবিস্ফোরণ গণঅভ্যুত্থান হয়ে দেশ পাল্টে দিল।

“এই বিস্ফোরণ আমাদের মধ্যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় গ্রোথিত করে দিয়ে গেল। ১৭ কোটি মানুষের প্রতিজনের সত্ত্বায়। অমর একুশের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা এই প্রত্যয়ে শপথ নিতে এসেছি।”

এর আগে বইমেলার উদ্বোধন মঞ্চে প্রধান উপদেষ্টা সাত লেখকের হাতে তুলে দেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রজনতার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতির ঘাড়ে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চেপে থাকা স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটেছে। আমাদের সাহসী তরুণদের এই অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এই বিজয়ের মাধ্যমে এসেছে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ইস্পাত কঠোর প্রতিজ্ঞা।

একুশ দেশের মানুষকে দুঃসাহসী করেছে উল্লেখ করে ইউনূস বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। দুঃস্বপ্নের বাংলাদেশকে ছাত্র-জনতা নতুন বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে।

“আমাদের তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীরা রাস্তার দেয়ালে দেয়ালে তাদের স্বপ্নগুলো, তাদের আকাঙ্ক্ষাগুলো, তাদের দাবিগুলো অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় এঁকে দিয়েছে। আমাদের রাস্তার দেয়াল এখন ঐতিহাসিক দলিলে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। এগুলোর স্থান এখন জাদুঘরে হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।”

বাংলা একাডেমির বইমেলা জাতীয় জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির প্রকাশিত বিভিন্ন বই প্রধান উপাদেষ্টাকে উপহার দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা বইমেলার উদ্বোধনী স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ