
হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং (Helicopter Parenting) হলো একটি অভিভাবকত্বের ধরন। যেখানে বাবা-মা অতিরিক্তভাবে তাদের সন্তানের ওপর নজর রাখেন, নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তাদের সবকিছুতে হস্তক্ষেপ করেন। এমনকি সন্তানের খুব সাধারণ ও স্বাভাবিক সিদ্ধান্তগুলোতেও দখল নেন তারা।
এই ধরনের বাবা-মাকে “হেলিকপ্টার প্যারেন্ট” বলা হয় কারণ তারা যেন একটি হেলিকপ্টারের মতো সন্তানের মাথার উপর ঘুরে ঘুরে সর্বক্ষণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেন। তারা সন্তানের প্রতিটি কার্যকলাপের উপর নজর রাখেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন, যা অনেক সময় তাদের নিজেদের সমস্যা সমাধান করতে এবং আত্মনির্ভরশীল হতে বাঁধা দেয়।
যেমন আপনার সন্তান স্কুলে কী পড়ছে, কার সাথে কথা বলছে, কী খাচ্ছে সবকিছুতে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেন। সন্তানের হয়ে পরীক্ষার জন্য পড়ালেখার রুটিন ঠিক করে দেওয়া বা এমনকি প্রজেক্ট তৈরি করে দেন। সন্তান কোন বন্ধুর সাথে মিশবে, কোথায় যাবে, কখন যাবে সব নিয়ন্ত্রণ করেন।
হেলিকপ্টার প্যারেন্টদের মূল লক্ষ্য সাধারণত ভালো। তারা চায় সন্তান নিরাপদ থাকুক, সফল হোক। কিন্তু, দীর্ঘমেয়াদে এর কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যেমন: সন্তান আত্মনির্ভরশীল হতে শেখে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষমতা তৈরি হয়। আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে তাদের মানসিক এবং জ্ঞানের বিকাশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
তবে, সামগ্রিকভাবে হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং শিশুদের ভবিষ্যৎ বিকাশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


