মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সামনে ‘জাতিগত সংখ্যালঘু’ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়,এ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দোষী অন্যদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে এবং শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে। সব দুষ্কৃতিকারীকে বিচারের আওতায় আনা হবে। বার্তায় বলা হয়,জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, সরকার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করছে যে, গণসহিংসতা, জাতিগত বিদ্বেষ এবং গোঁড়ামির কোনো স্থান বাংলাদেশে হবে না। সম্প্রীতি, শান্তি ও আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটে এমন কর্মকাণ্ডে যারাই লিপ্ত হবে, তাদের পরিচয় বিবেচনা না করে সবার ক্ষেত্রেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সরকার এ বিষয়ে সতর্ক করে দিচ্ছে। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে ‘আদিবাসী’ শব্দ সংবলিত একটি গ্রাফিতি স্থান পেয়েছিল। সেখানে একটি গাছের পাঁচটি পাতায় লেখা ছিল মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও আদিবাসী; পাশে লেখা ছিল ‘পাতা ছেঁড়া নিষেধ’। ‘স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টি’ ব্যানারে একদল শিক্ষার্থীরা গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড- এনসিটিবি ঘেরাও করার পর রাতে ওই বইয়ের অনলাইন সংস্করণ থেকে চিত্রকর্মটি সরিয়ে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টায় পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয় ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্রজনতা’ নামে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। পরে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ও একইসময়ে পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাও করার ঘোষণা দেয়। ঘোষণা অনুযায়ী আদিবাসী ছাত্রজনতার ব্যানারে শিক্ষার্থীরা বুধবার পাঠ্যপুস্তক ভবনের সামনে উপস্থিত হলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক লাঠিপেটা করে। হামলায় আহত নয়জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দুই সংগঠনের নেতারাই দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। আর আদিবাসী শিক্ষার্থীরা হামলার ঘটনার বিচার ও আদিবাসী লেখা গ্রাফিতি পুনর্বহালের দাবিতে বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ এবং শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেন।

বিশ্বে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এইচএমপিভি ভাইরাস। নতুন এ ভাইরাস করোনার মতো ভয়াবহ না হলেও লক্ষণ করোনার মতোই। চিকিৎসকদের মতে এ ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, শিশু ও বয়স্করা। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিছু নিয়মে মেনে চললেই এইচএমপিভি রোগের হাত থেকে থাকা সম্ভব।

এইচএমপিভি একটি শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস যা সাধারণ সর্দি, কাশি, জ্বর, এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। এটি বিশেষত শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এটি মূলত বস্তু, স্পর্শ কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির সংস্পর্শে আসলে এইচএমপিভি ছড়াতে পারে।

এই ভাইরাস থেকে নিজেকে এবং অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:

১. হাত পরিষ্কার রাখা
বাইরে থেকে আসার পর বা কোনো কিছু র্স্পশ করার পর ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। সাবান দিয়ে হাত ভালোমতো পরিষ্কার করতে হবে। এ ছাড়া অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক এবং মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে খাওয়ার আগে ও মুখ, নাক বা চোখ স্পর্শ করার আগে এবং জনসমাগমস্থল থেকে ফিরে হাত ধুতে হবে। যদি সাবান ও পানি না থাকে, তাহলে অ্যালকোহলযুক্ত (কমপক্ষে ৬০%) স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

২. মাস্ক পরা
বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক এমন ভাবে পরতে হবে যাতে নাক মুখ ভালো করে ঢাকা থাকে। হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু বা কনুই দিয়ে মুখ ঢাকুন এবং ব্যবহৃত টিস্যু সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন।

৩. বস্তু বা জিনিস কম স্পর্শ করা

দরজার হাতল, আলোর সুইচ, স্মার্টফোন এবং কিবোর্ডের মতো বারবার স্পর্শ করা জিনিসগুলো পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করুন। জনবহুল স্থানে সিঁড়ি বা অন্যান্য বস্তু স্পর্শ না করাই ভালো। এছাড়া একাধিক ব্যক্তির স্পর্শ করা জিনিসও ব্যবহার না করাই ভালো।

৪. আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
অসুস্থ ব্যক্তি বা আক্রান্ত ব্যাক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে যাদের এ সময় সর্দিকাশি জনিত সমস্যা আছে তাদের জিনিস ব্যবহার না করা ভালো। সবচেয়ে ভালো হয় এই সময়ে জনসমাগম এড়িয়ে চলা।

৫. অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকুন
জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট অনুভব হলে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসাসেবা নিন। অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে দূরে থাকুন এবং যদি আপনি নিজে অসুস্থ হন, তাহলে বাড়িতে বিশ্রাম নিন। পুষ্টিকর খাবার খান ও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৬. স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন
সবসময় সুস্থ জীবনধারা অনুসরণ করা উচিত। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। এগুলো  রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ঘুম ঠিক মতো না হলে শরীরে সর্দি কাশির মতো নানা সমস্যা দেখা দেয় এবং ক্লান্তি অনুভব হয়।

৭. চিকিৎসকের পরামর্শ
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন যদি আপনার বা পরিবারের কারও শ্বাসকষ্ট, উচ্চ জ্বর বা অন্যান্য গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়, অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তাহলে এই সচেতনতা এবং সতর্কতা অবলম্বন করে আপনি এইচএমপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে এবং আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ