মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬

দ্রুত ছড়াচ্ছে সুপার ফ্লু ‘সাবক্লেড কে’

ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের জীবাণূর সংক্রমণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাধারণ সর্দি কাশি বা ফ্লু ভাইরাস। তবে, এ বছরের মৌসুমি জ্বর বেশ আলাদা।

ভাইরাল জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জা অনেক ধরনের ভাইরাস সংক্রমণে হতে পারে। সারা বিশ্বে গত আগস্ট থেকে ছড়াতে শুরু করে এইচ৩এন২ নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ‘সাবক্লেড কে’। অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসটির উপসর্গের তীব্রতাও বেশি। তাই চিকিৎসকরা এর নাম রেখেছেন ‘সুপার ফ্লু’।

এটির উপসর্গ গতানুগতিক ফ্লুর তুলনায় তীব্র, সাধারণ ভাইরস জ্বরের চেয়ে বেশি তীব্রদায়ক। রোগীর জ্বর সহজে কমে না, কাশির স্থায়িত্ব বেশি ও দুর্বলতা সহজে কাটতে চায় না।

বছরের শেষ দিকে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই সাবক্লেড কে- ছড়িয়ে পড়েছে। গবেষকদের ধারণা বর্তমানের মোট ফ্লু সংক্রমনের ৮০ শতাংশই সাবক্লেড কে।

নতুন এই ভাইরাসের উপসর্গ
৭-১০ দিন স্থায়ী হঠাৎ তীব্র জ্বর। প্রচন্ড কাশি ও গলা ব্যাথা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। তীব্র শরীর ও মাথা ব্যাথা। খাবারে অরুচি। শিশুদের ক্ষেত্রে বমি ও পাতলা পায়খানা। জ্বর সেরে যাওয়ার পরও অতিরিক্ত দুর্বলতা।

কিভাবে ছড়ায়
হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে, কথা বলার সময় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি অবস্থান করলে এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে, গ্লাস-প্লেট ও দরজার হাতল ইত্যাদি স্পর্শ করলে।

প্রতিরোধে করণীয়
ফ্লু থেকে নিজেকে রক্ষা করা খুব কঠিন নয়। কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তুললে সাবক্লেড কের পাশপাশি অন্যান্য ফ্লু ভাইরাস থেকেও নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে— নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বিশেষত বাইরে থেকে ফিরে অথবা খাওয়ার আগে। যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলা, গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় মাস্ক ব্যবহার করা এবং বাস-ট্রেনে মুখোমুখি না দাঁড়ানো। জ্বর-কাশি হলে নিজে মাস্ক ব্যবহার করা, যাতে ভাইরাস না ছড়ায়। অসুস্থ অবস্থায় অফিস বা স্কুলে না যাওয়া। পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রাম। প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়া। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা এবং বেশি করে ভিটামিন সি খাওয়া, যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সর্বোচ্চ শক্তিতে লড়াই করতে পারে।

সূত্র: কালের কন্ঠ

 

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ