
বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে সারা দেশে বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে বিআরটিসির বাস। সকাল থেকে শুধু কমলাপুর ছেড়েছে ১০টি বাস।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় দেখা যায়, হ্যান্ড মাইকে ডেকে বিআরটিসির বাসে যাত্রী তোলা হচ্ছে। তবে প্রথম অবস্থায় অনেকে না জেনে পার্শ্ববর্তী অন্য বাসের কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন।
যাত্রীরা বলছেন, রেলওয়ে বিআরটিসির ব্যবস্থাপনায় বাসের ব্যবস্থা করলেও সেগুলো দেরিতে ছাড়ছে। সকাল থেকে অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা বেশ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাসে উঠতে পারছেন। এজন্য ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
চট্টগ্রামে যাত্রী সুব্রত বলেন, আমার ট্রেন ছিল ভোর ৪টায়। আমি এখনো যেতে পারিনি। শুনলাম একটি বাস নাকি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। আবার কখন বাস ছাড়বে জানি না।
রাজশাহীর যাত্রী আলমগীর বলেন, আমি জানতাম না বিআরটিসির বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপেক্ষা করে বাইরে থেকে অন্য পরিবহনের টিকিট কেটেছি। অনলাইনে টিকিট কাটায় টিকিটের টাকা ফেরত পেতে হয়তোবা দেরি হবে।
বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার জন্য দুটি, ঢাকার জন্য একটি এবং সিলেটের জন্য তিনটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূলত ট্রেনের সময়সূচি মেনে এসব বাসের গন্তব্য ঠিক করা হয়েছে। বাসগুলোর মাধ্যমে যাত্রীরা নির্ধারিত গন্তব্যে নামার সুযোগ পাবেন।
কর্মবিরতির কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সকালে স্টেশনে এসে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। এসব যাত্রীর জরুরি প্রয়োজন, পারিবারিক কাজ, ব্যবসায়িক কাজ, চিকিৎসা, পরীক্ষাসহ নানা কাজে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রেন না পেয়ে তাঁদের অনেককে ফিরে যেতে হয়েছে। পরে বিআরটিসির বাসের ব্যবস্থা করা হয়।
রেলওয়ের রানিং স্টাফ বলতে ট্রেনের চালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিকিট পরিদর্শকদের (টিটিই) বোঝানো হয়। তাঁরা ১৬০ বছর ধরে মাইলেজ সুবিধা পাচ্ছিলেন। অর্থাৎ দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বেসিকের (মূল বেতন) হিসেবে বাড়তি অর্থ পেতেন। এ ছাড়া অবসরের পর বেসিকের সঙ্গে এর ৭৫ শতাংশ অর্থ যোগ করে অবসরকালীন অর্থের হিসাব হতো। তবে ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর এই সুবিধা সীমিত করে অর্থ মন্ত্রণালয়।