
গ্রে ডিভোর্স, সামাজিক মাধ্যমে চর্চায় এখন এই টার্মটি। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী দম্পতিরা বহু বছর একসাথে থাকার পর আলাদা হয়ে গেলে তাকে বলে গ্রে ডিভোর্স। দিনদিন সমাজে এ ধরনের গ্রে ডিভোর্স বেড়েই চলেছে।
বছর পাঁচেক আগেও এই টার্মটি মানুষের চর্চায় ছিল না। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, মানুষের বয়স বাড়ছে, বিচ্ছেদের দিকে ঝুঁকছেন দম্পতিরা। এর সবচেয়ে বড় উদাহরন বিল গেটস, জেফ বেজোস, আমীর খান, এ আর রহমান, টম ক্রজ এর মতো তারকারা।
মানব সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ সামজিক জীব। সমাজ বা দায়িত্বের কথা ভেবেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সেসময় মনের মিলের বা ভালবাসার গুরুত্বকে অতটা পাত্তা দেওয়া হতো না। কিন্ত এখন একজন নারী বা পুরুষ নিজের জন্য এমন একজন সঙ্গী চান যিনি তাকে বুঝবেন এবং তার প্রতি সহানুভুতিশিল হবেন। আর এখানটায় এসেই দেখা দেয় আবেগের ঘাটতি।
গ্রে ডিভোর্সের আরেকটি বড় কারণ হলো এম্পটি নেস্ট সিনড্রোম। যখন সন্তানরা বড় হয়ে দূরে চলে যান অথবা আলাদা হয়ে যান, তখন মা-বাবার মধ্যে দেখা দেয় এক ধরনের শূন্যতা। তৈরি হয় মনোবেদনা আর দেখা দেয় আবেগগত জটিলতা। একেই বলে এম্পটি নেস্ট সিনড্রোম। তখন আর একসঙ্গে থাকার সাধারণ ক্ষেত্র বা ইচ্ছা কাজ করেনা। ফলে দু’জনের মধ্যে তৈরি হয় দূরত্ব।
ঠিক এসময়টায় এসে সঙ্গীর প্রতি দেখা দেয় সন্দেহ। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। তখনই নতুন বন্ধু তৈরির আগ্রহ তৈরি হয়। ফলে অন্য কারো সঙ্গে তৈরি হয় সম্পর্ক। অনেকসময় শারীরিক সম্পর্কের ঘাটতি থেকেও এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।
কখনো কখনো প্রতারণা বা চিটিং গ্রে ডিভোর্সের অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিনের সম্পর্কে যদি বিশ্বাস ভেঙ্গে যায় তখন এ ধরনের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা মানুষের জন্য কঠিন হয়ে যায়।


