
সরকার ও সেনাবাহিনী খুব সুন্দরভাবে একে অপরের সম্পূরক হিসেব কাজ করছে বলে জানিয়েছে সেনা সদর। প্রতিনিয়ত সরকারের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করছে সেনাবাহিনী।
সোমবার সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান, সোনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা।
করিডোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এটা আমাদের দেশ। আমাদের সবার দেশ। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সাথে আমরা সবাই জড়িত। দেশকে ভালো রাখতে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। সুতরাং আমি মনে করি না এই বিষয়টি এমন পর্যায়ে গেছে, যেভাবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।’
মো. নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, করিডরের সঙ্গে বর্ডারে আরসার মুভমন্টের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। দুইটি বিষয় আলাদা। সরকার এবং সেনাবাহিনী ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা করছে এরকম ভাবার সুযোগ নেই। সরকার এবং সেনাবাহিনী একসাথে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও একসাথে কাজ করবে।
চট্টগ্রামে একটি কারখানায় সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএফের পোষাক পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেএনএফ মূলত বম কমিউনিটি ভিত্তিক সংগঠন। পোষাক পাওয়ার সংবাদটি সঠিক। তাদের আক্রমনে কয়েকজন সেনাসদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে নিশ্চয়ই এটি কোন ভালো খবর নয়।
বর্ডার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সোনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক জানান, ‘আমি যদি এক লাইনে উত্তর দিতে চাই, অবশ্যই আমরা বর্ডার কম্প্রোমাইজ করিনি। যতক্ষন পর্যন্ত আমাদের গায়ে বিন্দুমাত্র শক্তি থাকবে, আমরা কখনোই বর্ডার কম্প্রোমাইজ করব না। কোন একটা সম্প্রদায়ের মাধ্যমে এ দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হতে পারে, সেটা কখনোই হবে না।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এখন খুব জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের সরকার কার্যত ভেঙ্গে পড়েছে। রাখাইন রাজ্যের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। আরাকান আর্মি কোনো স্বীকৃত বাহিনী নয়। ফলে ওই এলাকায় এখন কোনো স্বীকৃত সরকারও নেই, আবার যাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ আছে, তারাও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়।
এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এর মানে এই না যে আমরা তাদের স্বীকৃতি দিচ্ছি বা তাদের উপেক্ষা করছি। সীমান্ত পরিস্থিতি এখন খুবই স্পর্শকাতর, তাই আমরা খুব সতর্ক রয়েছি।
বিজিবি এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তায় আমরা সীমান্তে কড়া নজরদারি করছি যেন দেশের সার্বভৌমত্বে কোনো সমস্যা না হয়। তবে, এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল অবশ্যই উদ্বেগজনক এবং এটা আমরা চাই না।


