বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬

আয়ারল্যান্ডে গণকবরের সন্ধান ৭৯৬ শিশুর করুণ মৃত্যু

আয়ারল্যান্ডে শত শত শিশুর সমাধির সন্ধান মেলে ২০১৪ সালে। তবে সংখ্যাটা যে এত বড় হবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। শৌখিন ইতিহাসবিদ ক্যাথরিন করলিস পশ্চিম আয়ারল্যান্ডের গলওয়ের তুয়াম শহরে প্রাক্তন সেন্ট মেরিজ শিশু আশ্রমে এই গণকবরের সন্ধান পান।

আনুষ্ঠানিকভাবে সোমবার থেকে এখানে খনন কাজ শুরু হবে। প্রায় দুই বছর ধরে খনন কাজ চলবে বলে ধারনা সংশ্লিষ্টদের।

১৯২৫-১৯৬১ সাল পর্যন্ত এই সেন্ট মেরিজ আশ্রমে আশ্রয় নিয়েছিল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বাইরে জন্ম নেওয়া শিশুরা। সন্তান জন্মের পর মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে নেওয়া হত সদ্যজাত শিশুটিকে।

মৃত্যুর রেকর্ড অনুযায়ী ১৯১৫ সালে আশ্রমে জন্ম নেওয়া প্যাট্রিক ডেরেন নামের এক শিশু পাঁচ মাস বয়সে প্রথম মারা যায়। আর সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ১৯৬০ সালে মেরি কার্টি। এছাড়া বিভিন্ন সময় আরো ৭৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই আশ্রমে।

শৌখিন ইতিহাসবিদ ক্যাথরিন করলিস সেন্ট মেরিজ শিশু আশ্রমের অন্ধকার জনসমক্ষে তুলে আনেন। ২০০৫ সালে পারিবারিক ইতিহাস জানতে গিয়ে এই গণকবরের সন্ধান পান তিনি।

আশ্রমে শিশুদের খেলার মাঠের কাছে মাদার মেরির মুর্তির নিচে একটি লন ছিল। সেখানকার তত্ত্বাবধায়ক জানান, আশ্রম ভেঙ্গে ফেলার পর সেখানে দুই শিশু ৭০ এর দশকে একটি কংক্রিটের স্ল্যাব টেনে তুলেছিল। তখন সেখানে একটি গর্তে অনেক হাড় পাওয়া যায়। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল সেগুলো ১৮৪০ এর দুর্ভিক্ষের সময় মারা যাওয়া মানুষের। তবে, ক্যাথরিন জানতেন দুর্ভিক্ষে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিদের ভিন্ন স্থানে সমাহিত করা হয়েছে।

পরে পুরনো মানচিত্র ঘেটে দেখা যায়, ১৯২৯ সালে এলাকাটি ‘সুয়েজ ট্যাঙ্ক’ নামে চিহিৃত। কিন্তু ১৯৩৭ সালের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে, ১৯৭০ সালে মানচিত্রে জায়গাটিকে কবরস্থান হিসেবে দেখানো হয়।

এরপর রেকর্ড অফিসে শিশুদের নামের তালিকা চেয়ে পাঠান ক্যাথরিন। এত বেশি নাম দেখে কর্মকর্তারা প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাননি। শেষ পর্যন্ত ৭৯৬ শিশুর মৃত্যুর তালিকা হাতে পেয়ে শিউরে উঠেন ক্যাথরিন করলিস।

কোনো কবরস্থানেই এই শিশুদের কবর খুঁজে পাননি তিনি। পরে নিশ্চিত হন ওই সুয়েজ ট্যাঙ্কের নিচেই লুকিয়ে রাখা হয়েছে শত শত শিশুর লাশ।

২০১৭ সালে আইরিশ সরকার প্রথম প্রাথমকি খনন কাজে সেখানে মানবদেহের বিভিন্ন অংশ থাকার প্রমাণ পায়। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে খনন কাজ শুরু হবে। এতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন খনন কাজের প্রধান সমন্বয়ক ড্যানিয়েল ম্যাকসুইটি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ