
ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় সদ্য নির্মিত রাম মন্দিরে অনুদানের সাত কোটি রূপি ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে চাপের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্দিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাস্টের হিসাবরক্ষণ দলের সাবেক পরিদর্শক মহিপাল সিং প্রথমে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন।
এরপর উত্তর প্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে।
অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলে কর্তৃপক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে। এ ঘটনায় নগদ অর্থ ও মূল্যবান উপহার সামগ্রী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে অনুদানের হিসাব-নিকাশ নিয়ে সাধারণ ভক্ত ও দাতাদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাদের দেওয়া স্বর্ণালংকার, রুপার ইট ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ হিসাব দাবি করছেন।
অযোধ্যার বাসিন্দা ব্রজেশ কুমার অভিযোগ করে বলেন, ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের বিশ্বাসের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারেনি। একইভাবে রাম মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নেতাও অভিযোগের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর প্রদেশে আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাদের ধারণা, অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, অযোধ্যার রাম মন্দির ভারতের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রকল্প। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেখানে মন্দির নির্মাণ শুরু হয় এবং এটি বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।


