
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার রাতে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। পরে ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র জানায়, ভিডিওতে থাকা তরুণী সম্প্রতি একটি চাকরির জন্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ ছাড়া তাঁর সুপারিশ করা একটি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ২২ জুনের তারিখে গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার সুপারিশ করার উল্লেখ রয়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল দাবি করে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
তবে একাধিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওটিতে এআই ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি সম্পাদিত বা কৃত্রিমভাবে তৈরি নয়; সিসি ক্যামেরার টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম ইতোমধ্যে ওই নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছেন। এর বাইরে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি।
এরপর মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ওই নারীর বাবার বাড়িতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই। একই সঙ্গে সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে যারা অপপ্রচার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


