দুই কুকুর হত্যা মামলায় দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় দুটি কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রোববার পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বাদী হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী সদর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। পরে বিচারক আবু বকর সিদ্দিক মামলাটি আমলে নিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

আসামিরা হলেন, আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে মঞ্জু হাওলাদার (৫০) এবং নুর ইসলাম হাওলাদারের ছেলে জহির হাওলাদার (৪৫)।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই সকাল ১১টার দিকে দক্ষিণ বাদুরার খেজুরতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জাহাঙ্গীর প্যাদার দোকানের সামনে দুটি বেওয়ারিশ কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, মোটা কাঠের লাঠি দিয়ে কুকুর দুটির মাথা ও মেরুদণ্ডে আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

ভিডিওটি নজরে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ৭(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায় মামলা করা হয়।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বক্তব্য

মামলার বাদী মো. আতিকুর রহমান বলেন,

“ভিডিও দেখে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

দোকানির দাবি

ঘটনাস্থলের দোকানি জাহাঙ্গীর প্যাদা বলেন, বেওয়ারিশ হলেও প্রায় চার বছর ধরে তিনি কুকুর দুটির দেখাশোনা ও খাবারের ব্যবস্থা করতেন। নিয়মিত তাদের টিকাও দেওয়া হয়েছিল।

তার দাবি, আসামি মঞ্জু হাওলাদার অভিযোগ করেছিলেন যে কুকুর দুটি তার হাঁসকে কামড়েছে। তবে ঘটনার দিন কুকুর দুটি তার বাড়িতেই ছিল বলে তিনি মঞ্জু হাওলাদারকে জানিয়েছিলেন।

আইনজীবীর বক্তব্য

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আল ইমরান হোসেন বলেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশা করছেন তিনি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ