বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬

এক রুপালি গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু

বাংলাদেশ ব্যান্ডসঙ্গীত ইতিহাসে একজন কিংবদন্তী শিল্পী হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে আইয়ুব বাচ্চুর নাম। ১৬ আগস্ট ১৯৬২ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহন করেন গিটারের এই জাদুকর। কিন্তু ভক্তদের কাঁদিয়ে ২০১৮ সালে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। বেঁচে থাকলে ৬৩ বছরে পা রাখতেন।

রুপালি গিটারে যখন হাত রাখতেন আর আঙ্গুলগুলো চলত তখন মনে হতো শহরের সব ট্রাফিক লাইট একসাথে সবুজ হয়ে গেছে, রাত হয়ে গেছে আরো নীল। আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন তেমনই একজন শিল্পী যিনি একটি প্রযন্মের হৃদস্পন্দনকে সুরে পরিণত করেছিলেন। বাংলাদেশের রক হিস্ট্রিতে তিনি যেন এক পূর্ণ অধ্যায়।

সত্তরের দশকে শুরুটা হয়েছিল গুরু আজম খানের ‘উচ্চারন’ ব্যান্ড দিয়ে। এরপর আশির দশকে বাচ্চু দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড সোলসে গিটারিস্ট হিসেবে ছিলেন। মেলোডি লিড, নিখুঁত বেন্ডিং এবং স্টেজে তার পারফর্ম্যান্স দিয়ে বুঝিয়ে দেন তিনি কতটা গিটারের ভাষা পরিণত করতে পারেন।

নব্বইয়ের দশকে তিনি সোলস ছেড়ে তৈরি করেন নিজের ব্যান্ড এলআরবি। এরপর সৃষ্টি করেন একের পর এক হিট গান। যেগুলো কখনো মেলোডি আবার কখনো বা রক গান হিসেবে তোলপাড় করে দেয় বাংলার শ্রোতাদের। এর মধ্যে তার একটি গান ‘চলো বদলে যাই’ নব্বইয়ের ক্যাসেট প্লেয়ার থেকে শুরু করে আজকের স্ট্রিমিং প্লে-লিস্ট সব যুগেই রিলেভেন্ট।

সুরের মানবিকতায় প্রতিটি শ্রোতাকে আবদ্ধ করে রাখার জাদু ছিল তার কম্পোজিশনে। ভাল গানের লিরিক, মেলোডি আর অ্যারেঞ্জম্যান্ট তিনটির মেলবন্ধনই ‘অ্যান্থেম’ প্রমান করেছেন আইয়ুব বাচ্চু।

আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন গিটারিস্ট বা ভোকাল নন। তিনি সময়ের সাথে তাল মেলানো অথবা সময়ের থেকে একধাপ এগিয়ে থাকা সাহসের নাম। মৃত্যুর দুইদিন আগে ২০১৮ সালে রংপুরের মঞ্চে তাঁর শেষ শো। মঞ্চের মানুষ জীবনটাকে বিদয়াও জানালেন মানুষের ভালোবাসার মাঝে।

আজ ১৬ আগস্ট রূপালি গিটারের জাদুকর, রকস্টার আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন, তাঁর জন্য অতল ভালোবাসা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ