আদালতে কাঁদলেন কামাল মজুমদার বললেন, হাসিনাকে ছাত্রদের দাবি মেনে নিতে বলেছিলাম

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার দাবি করেছেন, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, ছাত্রদের দাবি মেনে নিতে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্বপক্ষে এই বক্তব্য রাখার কারণে তাকে গণভবনে ঢুকতে দেয়া হতো না।

সোমবার আদালতে এসব কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে কামাল আহমেদ মজুমদার কাঁদতে থাকেন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।’

তবে কামাল আহমেদ মজুমদারের এসব বক্তব্য অসত্য বলে দাবি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।

ওমর ফারুক ফারুকীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে কামাল আহমেদ মজুমদার আদালতের কাছে দাবি করেন, ‘আমার সম্পর্কে বলা হয়েছে, আমি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছি। কিন্তু আমি বলতে চাই, আমি সরকারকে একটি টাকাও রাজস্ব ফাঁকি দিইনি। আমি মিরপুরের কারও জমি দখল করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগের সরকারের অনেক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, আপনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার দাবিদাওয়া মেনে নেন। আমার এ বক্তব্যের কারণে গণভবনে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।’

কামাল আহমেদ মজুমদারের এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি আদালতকে বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের যারা বিরোধিতা করেছিল, তাদের জেলে যেতে হয়েছে। হাসিনা সরকারের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকেও জেলে যেতে হয়েছে। এখন কামাল আহমেদ মজুমদার বলছেন, তিনি শেখ হাসিনার অনেক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। বাস্তবে তিনি মিথ্যা কথা বলছেন। তিনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একজন অন্যতম সহযোগী।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ