বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬

যেভাবে হুন্ডিকে ডিজিটাল রূপ দিল ক্রিপ্টো

বিশ্বে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার জনপ্রিয় একটি মাধ্যম বাইন্যান্স। ২০১৭ সালে কেম্যান আইল্যান্ডে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও একজন চীনা নাগরিক। এর প্রধান মুদ্রা ইউএসডিটি, যার মূল্য সব সময় মার্কিন ডলারের সমান থাকায় এটি ক্রিপ্টো ব্যবসায়ীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ বিটকয়েন ব্যবহার বা লেনদেনকে অবৈধ ঘোষণা করে। তবুও ধারণা করা হয় বাংলাদেশে ৪০ লাখেরও বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারকারী রয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে জুয়া, হুন্ডি, পাচার, সাইবার চাদাবাজি-সব ক্ষত্রেই বিভিন্ন ধরনের ক্রিপ্টো বা ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও নেটওয়ার্কগুলো আবার নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের একজন ব্যবহারকারী তার অভিজ্ঞতায় জানিয়েছেন, ‘ধরুন আপনি বাইন্যান্সের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠাতে চান। আপনার কাছে টাকা আছে, কিন্তু ডলার নেই। তখন আপনি বাইন্যান্সে লগ ইন করে পি২পি অপশন ব্যবহার করবেন। সেখানে ব্যাংক ট্রান্সফার বা বিকাশ, রকেট, নগদের মাধ্যমে ক্রিপ্টো কেনা যায়। এরপর বাইন্যান্স ক্রিপ্টোকে ‘এসক্রোতে’ নিরাপদে রাখে। ফলে আপনার টাকা সুরক্ষিত থাকে, বিক্রেতা চাইলেও টাকা নিয়ে পালাতে পারবে না। আবার যখন বিক্রি করবেন তখন আপনি আগে টাকা পাবেন, তারপর ক্রিপ্টো পাঠাবেন। লেনদেন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রিপ্টো বাইন্যান্সের ভেতরেই লক অবস্থায় থাকে।’

বিষয়টি সহজে বোঝাতে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘মনে করেন আপনি ১০ লাখ টাকার ইউএসডিটি কিনলেন। এরপর আপনি সেটি বিশ্বের যে কোন দেশে পাঠাতে পারবেন। বিষয়টি অনেকটা হুন্ডির মতো। আপনার ওয়ালেট ঠিকানা দিলেই মুহূর্তের মধ্যেই যে কোন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার আসলে এটা থামাতে পারবে না।’

মূল সমস্যা হলো ইন্টারনেট যতদিন থাকবে সরকার নিষিদ্ধ করলেও মানুষ তা চালিয়ে যাবে। কারণ এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় কোন কর্তৃপক্ষ নেই।

ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পাচাড় বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রকদের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিষিদ্ধের পরিবর্তে মনযোগ দিচ্ছে নিয়ন্ত্রণে।

ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) এখন সব দেশকে বাধ্য করছে ভার্চুয়াল অ্যাসেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের-এক্সেঞ্জ, পি-টু-পি, ওয়ালেট সার্ভিস-কেওয়াইসি, রিপোর্টিং ও আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময়ের আওতায় আনতে।

ইইউ, যুক্তরায্য, ইউএই সব জায়গায় এখন এসব আইন কার্যকর। ইইউর মাইকা আইন লেনদেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বাধ্যতামূলক করেছে। দুবাই, আবুধাবি, বাহরাইনের এক্সচেঞ্জগুলোকে লাইসেন্স, মূলধন ও অর্থ পাচার আইন কঠোরভাবে মানতে হয়।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ