
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মূখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার আদালতে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা শেষে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এ তথ্য জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতে ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল, ফয়সালের বোন জেসমিন, আলমগীর ও ফিলিপসহ পাঁচজন এখনো পলাতক।

শফিকুল ইসলাম আরো জানান, ফয়সাল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পলায়নে সার্বিক সহায়তা করেন আসামি যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত নির্বাচিত কমিশনার ছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং হাদির পূর্ববর্তী বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে শরিফ ওসমান হাদিকে তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি’র নির্দেশে হত্যা করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণ ভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরে অবস্থার অবনতি হলে এভায়ার কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের উদ্যোগে তাকে সিংগাপুর নেওয়া হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে সিংগাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৯.৪৫-এ মারা যান হাদি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আলোচনায় আসেন ওসমান হাদি। মাদ্রাসা শিক্ষক বাবার সন্তান ওসমান হাদি ঝালকাঠির নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতকোত্তর শেষে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।


