
অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও অভিবাসন নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা। দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স) সম্প্রতি বাংলাদেশকে ‘এভিডেন্স লেভেল-৩’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে স্টুডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) পাওয়ার শর্তাবলি আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এখন উচ্চতর আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্টে পর্যাপ্ত অর্থের উৎস, দীর্ঘমেয়াদি লেনদেনের ইতিহাস এবং সন্দেহজনক ডিপোজিটের ব্যাখ্যা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা দক্ষতায় (IELTS/PTE) আগের চেয়ে বেশি স্কোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ (GS) শর্তের আওতায় শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশে ফেরার সম্ভাবনা আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এমনকি পূর্বের শিক্ষাগত গ্যাপ বা বিষয় পরিবর্তনও ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। অনেকের ভিসা প্রসেসিং সময় বেড়ে যেতে পারে, আবার অনেক আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। গ্রাম বা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি আর্থিক প্রমাণ জোগাড় করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, এই পরিবর্তনে মানসিক চাপ, ভর্তি বাতিল এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় কিছু করণীয় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উচিত ভিসা আবেদন করার আগে নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষা পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া। আর্থিক নথি প্রস্তুতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, ইংরেজি দক্ষতা উন্নত করা এবং পড়াশোনার লক্ষ্য সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বিকল্প গন্তব্য হিসেবে কানাডা, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপের দেশগুলোকেও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার নতুন নীতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও সঠিক প্রস্তুতি ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


