মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় স্বৈরাচারী হাসিনার মৃত্যুদন্ড

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে মামলার অপর আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামন খাঁনকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্জকরের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষি হওয়ায় পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বাধী তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

২ ঘন্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁনের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবী ছাড়াও জুলাই-আগস্টে নিহতদের কয়েকজন পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রায়ে আদালত বলেছেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়, “আমরা ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই মত দিচ্ছি যে, তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নির্বিচারে ও নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করে যে ঘৃণিত অপরাধ করেছে তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি না দিলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।”

এই মামলার আসামি শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন ভারতে অবস্থান করছেন। এদিন ট্রাইব্যুনালে একমাত্র আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন উপস্থিত ছিলেন।

গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ এই তিন আসামির বিরুদ্ধে টাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগগুলো হলো-গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রানঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ।

অভিযোগের পক্ষে আন্দোলনকারীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ সংক্রান্ত হাসিনার অডিও টেপ ও সাক্ষ-প্রমাণ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ